১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ঘাতক শাফায়েত

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা শাহজাদা ইসলাম খুনের মুল ঘাতক সাফায়াত উল্লাহ শৈকত ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। এনিয়ে শাহাজাদা ইসলামের সহকর্মী ও স্বজনদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে শাহাজাদা হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে আটক মামলার ৬নং আসামী অর্পন আশ্চার্য দীপ ও ৭ নং আসামী ঈশাত ই রাব্বিকে আদালতের নির্দেশে ১ দিনের রিমান্ডে শেষ করেছে পুলিশ। একদিনের রিমান্ডে তাদের নিকট থেকে হত্যাকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জানা যায়, গত ২৭ মে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে জনাকীর্ণ নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহজাদা ইসলামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে স্কুল  ছাত্র শাফায়েত উল্লাহ শৈকতের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর সন্ত্রাসী চক্র। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমেক হাসপাতাল ও পরে আশংকাজনক অবস্থায় ঢামেকে নেয়ার পর রাত ১০ টা দিকে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় শাহজাদা তারই বন্ধুর ছোট ভাই ফুয়াদের জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে মোটর সাইকেলযোগে ২ বন্ধু নিয়ে নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় আড্ডা দিতে আসে। সেখানে আসার পর পরিকল্পিতভাবে সাফায়াতসহ ৭/৮ জন মিলে  এলোপাতারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় রুমানকেও কুপিয়ে জখমের চেষ্টা করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। শাহজাদা ইসলাম (২১) নগরীর সুজানগর এলাকার ব্যাবসায়ী শহিদ মিয়ার ছেলে। ২ভাই ২ বোনের মধ্যে সে ৩য়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত শাহাজাদার বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার ২ দিন পর ২৯ মে শাফায়ত উল্লাহ শৈকতকে প্রধান আসামী করে ৭ বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন।

ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি ব্যাগের সূত্র ধরে ওই দিন রাতেই মামলার ৬নং আসামী মডার্ণ স্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র অর্পন আশ্চার্য দীপকে আটক করে পুলিশ। সে নগরীর বাদুরতলা ডা.জোবেদা হান্নান গলির বাসিন্দা প্রানেশ্বর আশ্চার্যের পুত্র। তার গ্রামের বাড়ি বরুড়ার দুর্গাপুর গ্রামে। জিজ্ঞাসাবাদে অর্পন খুনের সাথে জড়িতদের নাম বলে দেয়। তার স্বীকারোক্তি অনুসারে মামলার ৭ নং আসামী ঈশাত ই রাব্বিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাব্বি নগরীর তালপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেনের পুত্র ও মডার্ণ স্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র।

এদিকে স্কুল ছাত্রের হাতে ভার্সিটি ছাত্রের করুন মৃত্যু নিয়ে এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে আলোচনার ঝড় এখনো থামছে না। এছাড়া মুল আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় স্বজন ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত শাহাজাদার বাবা শহিদ মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার পুত্র খুনের প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। মুল আসামীরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। আমি সকল আসামীর অবিলম্ভে গ্রেফতারের দাবী জানাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নূরুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডটি প্রকাশ্য দিবালোকে নগরীর প্রধান সড়কের জনার্কীর্ণ স্থানে সংগঠিত হয়েছে। কারা হত্যান্ডে জড়িত তা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি। ঘটনার মুলহোতা শাফায়েত বয়সে কম হলেও খুবেই চতুর। তাকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলছে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।