স্ত্রীর লাশ বাসায় রেখে সন্তান নিয়ে পালালেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক ● চট্টগ্রাম নগরের আলকরণ এলাকার একটি বাসা থেকে শনিবার এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘরে লাশ রেখে পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে স্বামী পালিয়ে যাওয়ায় এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—সন্দেহ করছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ রহস্য জানা সম্ভব হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত গৃহবধূর নাম আফসানা আক্তার শান্তা (২৮)। তাঁর স্বামীর নাম শাহ আলম মিঠু (৩০)। তিনি জলসা মার্কেটের একটি দোকানে চাকরি করেন। তাঁদের মেয়ের নাম মুশফি (৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানাধীন আলকরণ এলাকার ১ নম্বর গলির আব্দুস সামাদের বাড়ির দোতলার বাসা থেকে শান্তার লাশ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়।

কোতোয়ালি জোন পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই বাসার দরজা খোলা ছিল। প্রতিবেশীরা শান্তাকে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে খাটের ওপর শোয়ানো এবং কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় তাঁর মরদেহ পায়।

তবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু গলায় দাগ আছে। এটা কিসের দাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মিঠুর বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। আর শান্তার বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁর বাবার নাম বেলাল হোসেন। সাত বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের মেয়ে মুশফি আইস ফ্যাক্টরি রোডের সিটি গ্রামার স্কুলের ছাত্রী। সে প্লে শ্রেণির ছাত্রী।

প্রতিবেশীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, শান্তা পরকীয়া প্রেমে জড়িত—এমন সন্দেহ করতেন মিঠু। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ ছিল। কয়েক দিন আগে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। পরে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা সেটা মিটিয়ে দিয়েছিল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন যে হতে পারে মিঠু শান্তাকে হত্যার পর মরদেহ রেখে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। অথবা শান্তা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। মরদেহ নামানোর পর নিজেকে রক্ষা করতে হয়তো মিঠু মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছেন। দুটোই হতে পারে। রহস্য উন্মোচন করতে মিঠুকে পাওয়া জরুরি। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তিনি আরো বলেন, শান্তার মা-বাবা চট্টগ্রামে আসবেন। তাঁরা এসে অভিযোগ করলে পুলিশ মামলা নেবে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।