সাইফুল হত্যার দুই বছরেও অভিযোগপত্র দেয়নি সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার দুই বছরেও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার সাইফুল হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১৫ সালের এই দিন সকাল নয়টায় ১৬ ঘণ্টা মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি মারা যান। দিনটি উপলক্ষে বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলে স্মরণসভার আয়োজন করেছে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগ।

সাইফুল হত্যার অভিযোগে হওয়া মামলায় এ পর্যন্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন জামিনে আছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে শাহেদ আলম (২৮) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ।

কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল বিকেল সোয়া পাঁচটায় কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর জখম করে দলের অপর পক্ষ। ঘটনার পরদিন সকাল নয়টায় কুমিল্লা নগরের ঝাউতলা এলাকার মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় ২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর প্রথমে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সামসুদ্দিন চৌধুরী। এরপর গত বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ মামলার তদন্ত করছেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ।

তদন্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চার্জশিট দিতে পারিনি। মামলার চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণে সমস্যাসহ নানা কারণে চার্জশিট দিতে বিলম্ব হচ্ছে।’

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার তিন আসামি শামীম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও গোলাম জিলানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা জামিনে মুক্ত হন। গতকাল দুপুরে কুমিল্লা শহরতলির দৌলতপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন এ মামলার ১৫ নম্বর আসামি শাহেদ আলম ওরফে সাঈদ। এ ছাড়া দেড় বছর আগে শ্রমিক লীগের নেতা রৌশন খান প্রকাশ মিঠু হৃদ্‌রোগে মারা যান। অন্য ১৭ জন আসামি ঢাকা ও কুমিল্লায় অবস্থান করছেন।

বাবা নুরুল হুদা অভিযোগ করেন, গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারকাজে সাইফুল হত্যা মামলার বেশির ভাগ আসামি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে অংশ নেন। এঁদের মধ্যে মাসুদ পারভেজ, নাসরুল্লাহ খান, গাজী রিয়াজ মাহমুদ, ইমন ভূঁইয়া, কবির উদ্দিন, আবদুস সোবহান খন্দকার, আ ন ম ইব্রাহিম, শামীম, আবদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন।

নুরুল হুদা দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ আসামিদের ধরছে না। আমার ছেলে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দিত। ওর মামলা নিয়ে আমাদের আর কতকাল বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’