লাকসাম বিএনপি নিজেরাই নিজেদের শত্রু

মশিউর রহমান সেলিম ● কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দু’গ্রুপের সৃষ্ট সংকট এখনো কাটেনি। বরং চাটুকার নির্ভর হয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে এ অঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে শনির ঘন্টা বাজিয়ে ধীরে ধীরে পা বাড়াচ্ছে নোংরা রাজনীতির দিকে। নিজেরাই নিজেদের শত্রুতে পরিনত হিয়েছে বিএনপি নেতা কর্মীরা। গত ৭/৮ মাস ধরে এলাকায় রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির দু’গ্রুপের আভ্যন্তরিন কর্মকান্ড ও ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচী পালন নিয়ে তৃনমূলে নানাহ কথাবার্তা উঠে আসছে। তারা এখন দু’ভাগে বিভক্ত।

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি যেন ভূল রাজনীতি, অযোগ্য নেতৃত্ব ও চাটুকার বেষ্টিত পকেট কমিটির রোষানলে পড়ে কোমড়ভাঙ্গা দল হিসাবে থমকে দাড়িয়েছে। নানাহ চাপের মুখে দু’গ্রুপেই ঘরোয়া ভাবে ২/৪টি কর্মসূচী স্থানীয় তথাকথিত মিডিয়াকর্মীদের ভাড়া করে ফটোসেশন করে গণমাধ্যমে দলীয় কর্মকান্ড প্রচার করলেও তাতে সাংগঠনিক ভাবে কোন গতি আনতে পারেনি।

এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে পরিচিত কৃতি সন্তানদের মধ্যে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কর্নেল (অবঃ) এম আনোয়ারুল আজিম ও ওই নির্বাহী কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক চৈতী আবুল কালাম এরা আজ দু’জন দু’মেরুতে অবস্থান করছে। ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে তাদের অনুসারীরা প্রকাশ্যে জানান দিচ্ছেন আগামী দিনে বিএনপির রাজনৈতিক করুন পরিনতির চিত্র।

দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি নানাহ অভিযোগের পাশাপাশি তৃনমূলে দলটির বিশাল সমর্থক থাকলেও সাংগঠনিক ভাবে অতীত ঐতিহ্য ফিরে আসার কোন নমুনা বুঝা যাচ্ছে না। তাদের আভ্যন্তরীন কোন্দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভোটের রাজনীতিতে কঠোর পরিনতি অপেক্ষা করছে এবং রাজনৈতিক মাঠ দখলে তাদের তৎপরতা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা ও হামলা-মামলার শিকারসহ অনভিজ্ঞ দায়িত্বহীনতায় কোন গন্তব্যে যাচ্ছে বিএনপি।

তৃনমূল নেতাকর্মীদের সংশয় বর্তমানে গতিহারা দলটির অস্তিত্ব শীর্ষনেতাদের নোংরা খেলার শিকারে কোন পথে হাটছে। তবে দু’গ্রুপের চলমান রাজনৈতিক কর্মকান্ড তৃনমূল নেতাদের সমর্থনের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।

লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নাটকীয় ভাবে কমিটি বাতিল ও পূর্ন গঠন এবং সদ্য বিএনপির সদস্য ফরম পূরন-বিতরণ দু’গ্র“পের পৃথক কর্মসূচী পালন জানান দিয়েছে তাদের সাংগঠনিক দৈন্যদশার চিত্র। বর্তমান বিএনপির পরিস্থিতির মতো দলের অভ্যন্তরে মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক সংকট ১৯৯৬ সালেও দেখা দিয়েছিলো। তৎকালীন সময়ে তথাকথিত স্থাণীয় বিএনপি দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড সাবেক ডাকসু নেতা রশিদ আহমদ হোসাইনীকে সংকট নিরসনের দায়িত্ব দিলে তিনি দলের সকল ইউনিয়নকে সাজাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক, ব্যবসায়ী ইঞ্জি, আবু নাসের ভূঁইয়া  ও কেন্দ্রীয় মহিলা দল নেত্রী রাশেদা বেগম হিরাসহ স্থানীয় শীর্ষনেতাদের নিয়ে দলটি ঘুরে দাড়ায় যার ফসল হিসাবে ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এ আসনে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প পরিবার আলানা গ্রুপের চেয়ারম্যান কর্নেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিম দলীয় প্রার্থী হয়ে এমপি হিসাবে জয় লাভে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়া ১/১১ সময়ে স্থানীয় কতিপয় নেতার ডিকবাজি খাওয়া,২০০৮ সালে স্থাণীয় বিএনপির একটি গ্রুপ জয় বাংলায় রূপ নিলেও দলীয় প্রার্থী সাবেক এমপি কর্নেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিম বর্তমান শাসকদলের প্রার্থীর কাছে পরাজিত, বিগত ৫ জানুয়ারী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আন্দোলন সংগ্রামে কারা মাঠে ছিলো-ছিল না এবং দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর পূর্বে স্থানীয় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা গুমের পিছনে দলের কারো কারো হাত থাকতে পারে বলে নানাহ বির্তক জমে উঠেছে।