লাকসাম জুড়ে ভারতীয় পন্যে সয়লাব প্রস্তুত দোকানীরা

মশিউর রহমান সেলিম ● আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার ভারত সীমান্তের চোরা দরজাগুলো দিয়ে প্রকাশ্যে চোরাপথে আসা এ অঞ্চলের হাট-বাজার বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যে সয়লাব হয়ে বেচাকেনায় প্রস্তুত দোকানীরা। এমনিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চল। ফলে এলাকায় অতিবর্ষন, জলাবদ্ধতা, খরা, তাপদাহ, ঘুর্নিঝড় লেগেই আছে। এ সুযোগে স্থানীয় চোরাচালানী চক্র হাট-বাজারগুলোতে ভারতীয় বিভিন্ন পন্যে সয়লাব করে তুলেছে। ফলে গ্রামীন সামগ্রীক অর্থনীতি চোরাচালান নির্ভর হয়ে মারাত্মক হুমকির মুখে।

এ অঞ্চলে চোরাচালানী তৎপরতায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পূর্বাঞ্চলীয় জেলার দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, সদর দক্ষিণ, বরুড়া, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলাসহ রেলওয়ে জংশন অবৈধ চোরাচালান ব্যবসার ট্রানজিট রুট হিসাবে বর্তমানে সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করে চলেছে। সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইবোলা, এইডস, প্ল্যাগ ও এ্যানথাস রোগসহ মারাত্মক বিভিন্ন জটিল রোগের বিস্তার ঘটেছে। জেলার বেশীর ভাগ সীমান্তএলাকা রয়েছে অরক্ষিত। অবৈধ পথে এপার-ওপারের চোরাচালানী চক্রের অবৈধ চলাচল এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুকি অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগামীদিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো কঠোর থেকে কঠোরতম হলে চোরাচালান ব্যবসার জোয়ারে কেউ কেউ জীবননাশী আগ্নেয়াস্ত্র ও মারনাস্ত্রসহ হরেক রকম মরনদানব পন্য আসার আশংকা করছেন। ফলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে অবাদ চোরাচালান এ অঞ্চলবাসীর কাম্য নয়। লাকসাম রেলওয়ে জংশন দেশের পূর্বাঞ্চলীয় চোরাচালান ব্যবসার প্রধান আস্তানা ও নিরাপদ রুট। এ অঞ্চলে চোরাচালান প্রতিরোধে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে ২/১টি নিস্পল অভিযান চালালেও নামে মাত্র কিছু মালামাল উদ্ধার ছাড়া জড়িত লোকজনকে রহস্যজনক কারনে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পূর্বাঞ্চলীয় রুট গুলো হচ্ছে কুমিল্লা হইতে সালদা নদী, ফেনীর পশুরাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক পথ, রেলপথ ও নৌপথ ছাড়াও বন্দর নগরী চট্রগ্রাম এখন চোরাচালান ব্যবসায়  আলোচিত এক ভারতীয় পন্যের সাম্রাজ্যের নাম।

আনসারদের সাথে সহকর্মীদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আভ্যন্তরীন কোন্দল জমে উঠায় স্থানীয় নিরাপত্তা ও পুলিশ দপ্তরের অনেক অজানা তথ্য স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে চলে আসছে। বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিআরপি ও নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক কোন জবাব পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে নিরাপত্তারক্ষী সহ রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন অপরাধ ও রেল বিভাগের আইন শৃঙখলা পরিস্থিতি অবনতিসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড সম্পর্কে মুখ খুলতে তারা নারাজ।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।