লাকসামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ

লাকসাম প্রতিনিধি ● লাকসাম পৌরসভা পেয়ারাপুর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে ৫ম শ্রেণির ৩ ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর পশ্চিমগাঁও পেয়ারাপুর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোচিং চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে। এ ঘটনায় ৩ ছাত্রীর অভিভাবক পৌর মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকসাম পৌর এলাকায় পেয়ারাপুর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কোচিং চলাকালীন সময়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আউয়াল এক এক করে ৩ ছাত্রীকে ডেকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতনসহ ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। ওইসময় এক ছাত্রী শোর চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে। স্থানীয়রা পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়েরকে বিষয়টি অবহিত করলে প্রধান শিক্ষক, ছাত্রী ও ছাত্রীদের অভিভাবকদের পৌর কার্যালয়ে নিয়ে আসার জন্য বলেন। পৌর কার্যালয়ে আসার পথে ওই শিক্ষক সু-কৌসুলে পালিয়ে যায়। এ সময় ৩ ছাত্রীর অভিভাবকরা ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

যৌন নির্যাতনের শিক্ষার ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ওইদিন সকালে স্কুলে কোচিং চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষক আবদুল আউয়াল স্যার আমাকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে বলেন গতকাল অংক পরীক্ষা এত খারাপ করলে কেন? সব সময় তোমার পরীক্ষা খারাপ হয় এখন থেকে আমি তোমার সব পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিবো এর বিনিময় তুমি আমাকে কি দিবে।তখন ছাত্রী বলে আমি কি দিবো স্যার। স্যার বলল তাহলে তুমি আমাকে ওইটা দিবা এ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে শরীরের বিভিন্নস্থানে ষ্পর্শ করে এবং চুমু খায়। ভয়ে আমি চিৎকার দিলে ক্লাসের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা বেরিয়ে আসে এবং স্থানীয় লোকজনকে ডেকে আনেন। ওই ছাত্রী আরও জানায় গতকালও আমার সাথে একই আচরণ করেছে আমি লজ্জায় ভয়ে কাহারো নিকট মুখ খুলি নাই।

যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের অভিভাবকরা বলেন, এই ঘটনা জানার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা পৌর মেয়রের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অতীতেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শ্রেনি কক্ষে ও অফিস কক্ষে একা পেয়ে ছাত্রীদেরকে যৌনহয়রানী অনেক অভিযোগ উঠেছিলো কিন্তু কখনো কেউ ভয়ে মুখ খুলেনি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল আউয়াল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেনো যে ওই ৩ ছাত্রী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে এটা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি পরিস্থিতি শিকার।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়েরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।