লাকসামে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● লাকসামে পাওনা টাকা চাওয়ার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ওই ব্যবসায়ীর নাম আলী নওয়াব (৪৫)।

ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের নাগরাপাড়া গ্রামে।

সোমবার লাকসাম থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা জানায়, ২০১৬ সালে পাশের গ্রামের সাদ্দামকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা হাওলাত দেন আলী নওয়াব। টাকা ফেরত দেয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও সাদ্দাম তা ফেরত দেয়নি। টাকা চেয়ে আলী নওয়াব ফোন দিলে সাদ্দাম তাকে গালিগালাজ করতো এবং ধমক দিতো আর ফোন না দেয়ার জন্য।

দীর্ঘদিন টাকা না পেয়ে বিষয়টি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে ঘটনাটি জানান আলী নওয়াব।

গত ৬/৭ মাস পূর্বে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে নিয়ে আলী নওয়াবের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে আটক করে। সাদ্দামের বাবা শহীদ খবর পেয়ে আলী নওয়াবের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেয়। গত শনিবার কান্দিরপাড় গ্রামের জসিম ফোন দিয়ে আলী নওয়াবকে সন্ধ্যা ৭টায় পাকা ব্রীজের নিকট আসতে বলে। আলী নওয়াব তার বড় ছেলে জেএসসি পরীক্ষার্থী ইয়াছিনকে নিয়ে পাকা ব্রীজের নিকট যায়।

ওই সময় সেখানে সাদ্দাম, রোকন, খোকনসহ ৮/১০ জন হাতের টর্চ লাইট দিয়ে আলী নওয়াবকে পিটাতে থাকে। সাথে থাকা ইয়াছিনকেও কয়েকটি থাপ্পর দেয়। ইয়াছিন আরো জানায়, তারা আমার বাবাকে একটু দূরে নিয়ে বেদম মারধর করে।

এ সময় সাদ্দামের হাতে থাকা টেটা দিয়ে আলী নওয়াবকে আঘাত করতে গেলে স্থানীয় লোকজন টেটাটি নিয়ে যায়। মারধরের ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। লজ্জায় বাড়ির লোকজনকে ঘটনাটি জানায়নি আলী নওয়াব।

পরদিন রোববার দুপুরে আলী নওয়াবের শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হলে তার স্ত্রী হাসিনা স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারকে দেখায়। ওই ডাক্তার তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়। পরে তার স্ত্রী হাসিনা হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

অপরদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি মহল জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহত আলী নওয়াব দৌলতগঞ্জ বাজারের জনতা ব্যাংকের সামনে চা দোকান দিত।

রাত ১টার দিকে খবর পেয়ে লাকসাম থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন, এসআই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গতকাল সোমবার নিহতের স্ত্রী হাসিনা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর কোন সময় হার্টের অসুখ ছিল না। তারা আমার স্বামীকে বেদম মারধর করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, টাকা ধার দেয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি।

লাকসাম থানার ওসি মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।