রাজাকারপুত্রকে আ’লীগের সভাপতি করায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সভাপতি পদে এক রাজাকারপুত্রের নাম ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিকী অনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচী পালিত হয়। পরে ওই ঘটনার প্রতিবাদে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিক্ষুদ্ধ নেতকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষাভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মনোহরগঞ্জ এলাকার শীর্ষ রাজাকার ছিলেন উপজেলার ফুলপুকুরিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান। তিনি বাইশগাঁও ইউনিয়ন শান্তি কমিটির সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সেই রাজাকারের পুত্র আবদুল কাইয়ুম চৌধুরিকে দলীয় গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য মো.তাজুল ইসলাম। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। বন্ধবন্ধুর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কখনও রাজাকারপুত্র আসতে পারে না। তাই আমরা এই কমিটি বিলুপ্ত করে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল আবুল কাশেম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এসব কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ছাত্রনেতা ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো.শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি লায়ন নূরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ফারুক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো.অহিদুর রহমান জয়, উপজেলা যুবলীগ নেতা শাহরিয়ার আলম মুকুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. মিজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার মজুমদার, ঢাকাস্থ্য লাকসাম বঙ্গবন্ধু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামছুল করিম দুলাল, অ্যাডভোকেট ওয়াদুদ শাহীন, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম শান্ত প্রমুখ।

উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়কে না জানিয়ে এবং ইউনিয়ন কমিটির নেতাদের কর্মী সভার কথা বলে ডেকে এনে দীর্ঘ ১২ বছর পর অনেকটা হঠাৎ করে গত ১৯ মে মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের একটি কক্ষে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো.তাজুল ইসলাম তাঁর আপন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরিকে সভাপতি এবং গত ১লা এপ্রিল উপজেলার বাকরা গ্রামে প্রকাশ্যে খুন হওয়া কৃষক আবদুল বাতেন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামী মো.জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই ওই কমিটি বাতিলের দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল স্থানে দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।