রাজনীতিতে কোন্দলে নেতৃত্ব শূন্য লাকসাম বিএনপি

মশিউর রহমান সেলিম ● ‘কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জে একটা সময় বিএনপি’র রাজনীতিতে যে কোন কর্মসূচীতে ‘‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে।’’ নানাহ স্লোগানে ভু-কম্পন শূরু হতো এলাকার সকল অলিগলিসহ রাজপথ। সম্প্রতি লাকসামের সকল ইউপি বিএনপি, পৌরসভা ও উপজেলা যুবদল-ছাত্রদল এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও যুবদল-ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি ঘিরে বিএনপি’র রাজনীতিতে আভ্যন্তরীন কোন্দলে এবং পদবঞ্চিত নেতাদের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও ২ উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক নেতার পদত্যাগ জানান দিচ্ছে আগামীদিনে এ অঞ্চলের বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যদশা সহজে কাটছে না।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা কর্নেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিম সমর্থিত গ্রুপ আর চৈতী আবুল কালাম সমর্থিত গ্রুপের রাজনৈতিক পালাবদলে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা নোংরা রাজনীতির দিকে পা বাড়াচ্ছে। যার প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে। বিশেষ করে এ গ্রুপিং এর খেসারত দিতে হয়েছে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৭ সালের আজ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবি।

এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বিএনপির সেই জৌলুস আজ চাটুকার নির্ভর হয়ে দিন দিন পা বাড়াচ্ছে দেউলিয়াত্বের দিকে। বিএনপির প্রতিপক্ষ এখন তারা নিজেরাই।

আভ্যন্তরীন নানাহ কোন্দলে গড়ে উঠেছে একাধিক গ্রুপ। দলীয় কোন্দল আর পুলিশি গ্রেপ্তার আতংক এবং হামলা-মামলায় মূল নেতৃত্বে শূন্যতা বিরাজ করছে। একটা সময় যাদের দাপুটে রাজনীতির মাঠে শক্ত অবস্থান ছিলো এখন তাদের বেশির ভাগ নেতাই ঘরে ঢুকে গেছেন।

দলীয় নানাহ কর্মসূচীতে একাধিক গ্রুপিং রাজনীতির কারণে বেশির ভাগ শীর্ষ নেতাদের কাউকে মাঠে দেখা যায় না। হামলা-মামলার শিকার হয়ে অনেক নেতাই বিদেশে চলে গেছেন। বর্তমানে নেতৃত্ব শূণ্যতায় দলটির আগামী গন্তব্য কোথায়? তবে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তুলতে না পারলে দেউলিয়াত্বের দিকে পা বাড়াবে এটাই স্বাভাবিক। সাংগঠনিক ব্যর্থতাই আজ দলটির রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলেও দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা একই চিত্র বলে অভিমত অনেকের।

রাজনীতির মাঠে আভ্যন্তরীন কোন্দল আর চাটুকারিতা নির্ভর রাজনীতি ভর করায় অস্তিত্ব হারানোর দিকে পা বাড়াচ্ছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি। দলীয় কর্মকান্ডে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটিতে স্থান না দিয়ে পকেট বানিজ্য নির্ভর দলীয় কর্মকান্ড টিকিয়ে রাখলেও একাধিক গ্রুপিংয়ের ফাঁদে পড়ে এখন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে নেই দলটির দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম।  নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না করে শীর্ষ নেতাদের আর্শীবাদ পুষ্ট ব্যাক্তিরা স্থান পাচ্ছে কমিটিতে। সবকটি ইউনিটের দলীয় কমিটিতে শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশ নেতাই যেন অতিথি পাখির মত। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং হামলা-মামলার শিকারসহ অদূরদর্শী- অনভিজ্ঞ দায়িত্বহীনতায় কোন গন্তব্যে যাচ্ছে বিএনপি। তৃনমূল নেতা-কর্মীদের সংশয় বর্তমানে গতিহারা দলটির অস্তিত্ব কোন পথে হাঁটছে শীর্ষ নেতারা। ফলে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপির নবগঠিত কমিটির প্রত্যাখানে দলীয় অসংখ্য নেতা-কর্মী পদত্যাগের মাধ্যমে ছিটকে পড়লেন রাজনীতির মাঠ থেকে।