মুড়ি কারখানায় উৎসবের আমেজ

মহিউদ্দিন মোল্লা ● রমজান মাস উপলক্ষে উৎসবের আমেজ কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি কারখানাগুলোতে। গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমেও শ্রমিকরা মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কুমিল্লা বিসিকের এই মুড়ি যাচ্ছে দেশে-বিদেশে। বিসিকে একাধিক মুড়ির কারখানা থাকলেও রমজান মাসকে সামনে রেখে পাঁচটি কারখানায় মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা বেশি। রাত-দিন মেশিনের গর গর শব্দে মুখর বিসিক এলাকা।

কারখানার মালিকরা জানান, রমজানের আগে থেকেই তারা মুড়ি উৎপাদন শুরু করেন। দেশি, বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তারা ভোক্তাদের চাহিদা মেটান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি মুড়ি কারখানায় শ্রমিকরা মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত। কেউ চাল দিচ্ছেন, কেউ গরম গরম ভাজা মুড়িগুলো বস্তায় নিচ্ছে, আবার কেউ মাথায় নিয়ে গুদামজাত করছে। শত শ্রমিকের শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর কুমিল্লাসহ সারা দেশে চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। মুড়ি তৈরির কয়েকজন কারিগর জানান, রমজান মাসের চাহিদার সঙ্গে সারা বছর হাজার হাজার মণ মুড়ি পাইকার ও আড়তদারদের সরবরাহ করেন। কুমিল্লা বিসিকে শুধু চাল আর লবণ দিয়ে ভাজা মুড়ি দিন দিন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

নগরীর রাজগঞ্জে মুড়ি কিনতে আসা জামাল হোসেন জানান, রমজান উপলক্ষে পরিবারের জন্য মুড়ি কিনতে এসেছি। প্রতি বছর বিসিকে উৎপাদন হওয়া বড় আকারের মুড়ি কিনি। কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি কারখানাগুলো কোনো সার বা রাসায়সিক দ্রব্য ব্যবহার করে না। যতটুকু জানি চালে শুধু লবণ মিশিয়ে মুড়ি উৎপাদন করা হয়, তা খেতেও সুস্বাদু।

বিসিকের বিসমিল্লাহ ফুড অ্যান্ড মুড়ি ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া মাহফুজ জানান, গত বছরের তুলনায় আমাদের চাহিদা বেড়েছে।   তবে আশানুরূপভাবে চালও পাচ্ছি না। যে দামে চাল সংগ্রহ করার কথা ছিল, সেই দামে চাল পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি ভাড়াও বেড়েছে। তাই মুড়ির দামও কিছু বাড়াতে হয়েছে। আমাদের ভাজা মুড়ির মধ্যে রয়েছে গিগজ মুড়ি, টেপী মুড়ি, দিনাজপুরী মুড়ি, গুটি মুড়ি, বিএইচ মুড়ি, স্বর্ণা মুড়ি।