‘বালুদস্যুদের হাত থেকে লটিয়াবাসীকে বাঁচান’

হোমনা প্রতিনিধি ● বালুদস্যুদের হাত থেকে হোমনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের লটিয়াবাসীকে বাঁচানোর জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানালেন পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম।

সভায় পৌরসভার সার্বিক সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে বক্তব্যকালে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘বালুদস্যুদের হাত থেকে লটিয়াবাসীকে বাঁচান।’

বুধবার পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে আড়াইহাজার এবং পূর্ব পাড়ে হোমনা উপজেলার লটিয়া ও শ্রীমদ্দি গ্রাম অবস্থিত। আড়াইহাজার উপজেলার বালুদস্যুরা নদীতে ৭/৮টি ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার (খননযন্ত্র) দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হোমনা অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। ফলে বিলীন হতে চলেছে নদীতীরবর্তী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড লটিয়াগ্রামের শত শত একর ফসলী জমি ও বাড়ি-ঘর।

ইউএনও কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, লটিয়াবাসী গতবছর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জমিজমা, বাড়ি-ঘর রক্ষাকল্পে বিক্ষোভ মিছিলসহ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হোমনা থানা অভিযানও চালিয়েছিল। কিন্তু বন্ধ হয় নি অবৈধ বালু উত্তোলন।

আইনশৃঙ্খলা সভায় ইউএনও কাজী শহিদুল ইসলাম শিগগিরই মেঘনা নদীতে বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালানার আশ্বাস দিয়ে রাজনীতিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- হোমনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল আহমেদ নিজামী, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক একেএম সিদ্দিকুর রহমান আবুল, ইইনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম গণি, মো. শাহজাহান মোল্লা, জসীম উদ্দিন সওদাগর, নাজিরুল হক ভূঁইয়া, জালাল উদ্দিন খন্দকার,  কামরুল ইসলাম ও মো. তাইজুল ইসলাম, ইউসিসিএ লি. এর চেয়ারম্যান মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সরফরাজ খান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ০৩ এর ডিজিএম মো. আক্তার হোসেন,  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার মোশারফ হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার আবুল কাশেম প্রধান ও প্রচার সম্পাদক আবদুর রশিদ সরকার, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আছমা আক্তার, মহিলা লীগ সভাপতি রীনা আমির প্রমুখ।

সভায়, ঈদকে ঘীরে অপরাধ প্রবণতা যাতে বৃদ্ধি পেতে না পারে এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দিন- রাত যান ও যাত্রীসাধারণ যাতে বির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে- সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিশেষ নজরদারী  আরোপ, পশুর হাট বির্বিঘ্ন রাখা, রাস্তা-ঘাট যানজটমুক্ত রাখা, জালটাকা প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, কোরবানীর স্থান নির্ধারণ ও পশুর বর্জ্য নিস্কাষণ ব্যবস্থা, বাল্যবিবাহ রোধে পদক্ষেপ ও সচেতনতা বৃদ্ধি, ঈদকে ঘীরে যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা রোধে প্রশাসনের নজরদারী নিশ্চিত করার ওপর আলোচনা হয়।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।