বরুড়ায় বিদ্যূৎ সংযোগ দেওয়ার নাম করে অর্ধকোটি টাকা লুট

বিএম মহসিন ● বরুড়া উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের সোয়া ৩ শতাধিক লোক বিদ্যূৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পর চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে চরম হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দালাল চক্র এরই মধ্যে সংযোগ প্রদানের কথা বলে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। আর দীর্ঘ দেড় বছরেও সংযোগ না পেয়ে বৈদ্যূতিক সংযোগ প্রত্যাশীরা ঘুরছে দালাল চক্রের পিছু পিছু।

স্থানীয় ও দুর্ভোগের শিকার একাধিক গ্রাহক সুত্রে জানা যায়, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যূৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষনায় জেলার বরুড়া উজেলার চিতড্ডা   ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে প্রায় দেড় বছর পূর্বে নতুণ বৈদ্যূতিক লাইন নির্মাণ করা হয়। এসময় ওই গ্রামের  ৩’শ ২৭ জন নতুণ বৈদ্যূতিক সংযোগের জন্য আবেদন করে। স্থানীয় সুত্র জানায়, এসময় সংশ্লিস্ট বিদ্যূৎ লাইনের ঠিকাদার ওই একই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আয়েত আলী ও আলি মিয়া’র ছেলে সেলিম সহ একই এলাকার লিয়াকত আলী, বিল্লাল হোসেন, ইমান হোসেন, জামাল হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, হোসেন মিয়া, আবুল কাসেম, অদুদ মিয়া’র নেতৃত্বে  একটি প্রভাবশালী চক্র নতুণ সংযোগ প্রদানের কথা বলে মিটার প্রতি ১১/১২ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়েও তাদের বিদ্যূৎ সংযোগ না দেওয়ায় ওই চক্রটির উপর সংযোগ প্রত্যাশীরা চাপ সৃষ্টি করে। এতে দালাল চক্রটি আবারো অতিরিক্ত টাকার জন্য পাল্টা সংযোগ গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের উপর চাপ দেয়। এছাড়াও বারবার দালালদের তাগিদ দেওয়ায় নানাভাবে সংযোগ গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী দেখাচ্ছে।

ভুক্তভোগী মুকুন্দপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রব, জসিম উদ্দিন, অহিদ মিয়া, মনু মিয়া, হোসেন, ফরহাদ, মোজাম্মেল, সামসুন্নাহার, মঞ্জিল হোসেন, আবুল বাশারসহ ভূক্তভোগী অনেকেই জানান, দালাল চক্রের সদস্যরা আবারো নতুন করে টাকা চাওয়ায় তারা হতাশ।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে সেলিম ও নুরুল হক মাষ্টার এই প্রতিনিধিকে জানান, প্রায় দেড় বছর পূর্বে মুকুন্দপুর গ্রামবাসী সভা করে আমাদের কাছে মিটারের জন্য টাকা দেয়। আমরা সেই টাকা তুলে আয়েত আলীকে দিয়েছি। যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এখন আয়েত আলী মিটার দেওয়ার বিষয়ে গড়িমসি করায় আমরা বিপদে আছি।

তবে আয়েত আলী বলেন, তারা আমাকে চাহিদামত টাকা না দেওয়ায় মিটার দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এঅবস্থায় দালালদের কবল  থেকে মুক্ত হয়ে দ্রুত সংযোগ পেতে মুকন্দপুর গ্রামের  ৩’শ ২৭ জন   বিদ্যূৎ সংযোগ প্রত্যাশী গণস্বাক্ষর করে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি-১,চান্দিনা জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে আবেদন করেছে দ্রুত সংযোগ প্রদানের জন্য।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।