বরুড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি!

বরুড়া প্রতিনিধি ● বরুড়া উপজেলার শরাফতি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ আমির হোসেনের বাড়িতে পুলিশ পরিচয় দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। এ সময় ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান শাড়ী কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বরুড়া থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা আদালতে মামলা করার নির্দেশ দেন।

পরে প্রবাসী স্ত্রী মোসাঃ মাহিনুর বেগম (৩০) বাদী হয়ে কুমিল্লা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৭নং আমলী আদালতে ১১/১৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। যার নং-৭৮৭/১৭। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত মামলা আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। উক্ত নির্দেশের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলাটি এফআইআর হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেনি।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- বরুড়া উপজেলার শরাফতি গ্রামের আমির হোসেন দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর যাবত সৌদি আরব প্রবাসে রয়েছে। ৩/৪ বছর পর পর দেশে ছুটিতে আসেন। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ছুটিতে আসেন। পরবর্তীতে তার পিতা হাজী আবিদ হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এমতাবস্থায় গত ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাত অনুমান ২টায় ওই প্রবাসীর বাড়ির উত্তর ভিটির আধা পাকা দালান ঘরে পুলিশ পরিচয় দিয়ে পোশাক পরিহিত সু-কৌশলে একদল ডাকাত অস্ত্র শস্ত্র সজ্জিত হয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে ডাকাত দল প্রথমে ওই ঘরে অবস্থানরত লোকজনদেরকে খাটের পায়ার সাথে বেঁধে মুখে গামছা বেঁধে আটকে রাখে এবং প্রবাসীর স্ত্রী মোসাঃ মাহিনুর বেগম (৩০) থেকে ষ্ট্রীলের আলমর ছাবি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ডাকাত দল ষ্টীলের আলমারী ড্রয়ার থেকে রক্ষিত নগদ ৫ লাখ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮টি মূল্যবান শাড়ী নিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী মুখ থেকে বাঁধা গামছা ফসকাইয়া ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে ডাকাতদল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী মোসাঃ মাহিনুর বেগম (৩০) বাদী হয়ে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৭নং আমতলী আদালতে স্থানীয় শরাফতি গ্রামের নেয়ামত উল্লাহর ছেলে সাদ্দাম (২৭), তার ছোট ভাই মনিরুল হক (২৪), মনির (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বরুড়া থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ওই নির্দেশের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ মামলাটি এফআইআর করেনি এবং কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। স্থানীয় লোকজন লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য ডাকাতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদানের ব্যবস্থা ক রতে পুলিশের জোড়দাবি জানাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন মাহমুদ মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান- আদালতের এফআইআর এর আদেশ থানায় এসে পৌছেনি। পৌছলে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।