বরুড়ায় নবম শ্রেণীর ছাত্রের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা!

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বরুড়ায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই ছাত্রের পরিবারের ও স্থানীয়দের দাবি এটি একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনয়নের খলার পাড় গ্রামের প্রবাসী আতিক হোসেনের ছেলে মেহদী হাছানের (১৩) সাথে ঝলম গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে মুক্তা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মেহদী হাছান স্থানীয় ঝলম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ও মুক্তা আক্তার বেওলাইন মহিলা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২০ জুলাই মুক্তা আক্তার বিয়ের দাবীতে মেহেদী হাছানের বাড়িতে অবস্থান নেয়। এর প্রতিবাদে পরদিন হাছানের মা হাজেরা বেগম স্থানীয় চেয়াম্যানের কাছে এর সমাধান চেয়ে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ২৫ জুলাই দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসলে মুক্তা আক্তার অসুস্থতার কারনে কথা না বলতে পারায় চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে আরেকদিন আসতে বলেন। কিন্তু মেয়ের বাবা কাউকে না জানিয়ে ১ আগস্ট কুমিল্লা আদালতে মেহদী হাছানসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মিথ্যা অপহরন মামলা করে। মামলায় মেহদী হাছানের বয়স ২৪ বছর দেখানো হয়েছে যা সম্পূর্ণ বাস্তব বিবর্জিত। মামলায় আরও যে দুইজনকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- মেহদী হাছানের মামা মিজান এবং জেঠা স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা গোলাম মোস্তফা।

এ বিষয়ে মুক্তা আক্তার জানান, মেহেদী হাছান আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেয় কিন্তু তারা পরিবার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আমি তার বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান নেই।

ঝলম ইউনয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখানে কোন অপহরণের ঘটনা ঘটেনি মেয়ের পরিবারই মেয়েকে তারা নানার বাড়ি পাঠিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছে। এই মেয়ে আগেও এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কের কারনে বিষ খেয়েছিল। অনেক ছেলের সাথে এ মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে আমার কাছে অভিযোগ আছে।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার এসআই জানান, আদালতের নির্দেশে আমার মামলাটি নতিভুক্ত করি এবং মুক্তা আক্তারেকে তার নানার বাড়ি থেকে উদ্ধার করি।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।