বরুড়ায় এক দিনে ২ হত্যা; ১ আত্মহত্যা

বিএম মহসিন ● বরুড়া উপজেলার পৃথক তিনটি গ্রামে ২টি হত্যা কান্ড ও একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন- উপজেলার চিতড্ডা ইউনিয়নের মুড়িয়ারা গ্রামের শারমিন আক্তার (২২), পয়ালগাছা ইউনিয়নের সুদ্রা গ্রামের মো. সুমন মিয়া (৩০), ঝলম ইউনিয়নের ঝলম গ্রামের আবদুল কুদ্দুস (৪০)। ২টি হত্যাকান্ডে পুলিশ ৪ জন কে আটক করে।

জানা যায়, উপজেলার চিতড্ডা ইউনিয়নের মুড়িয়ারা মহিন উদ্দিন স্ত্রী শারমিন আক্তার কে তার দেবর মাঈন উদ্দিন (২৫) শুক্রবার রাতে শারমিনের ঘরে ঢুকে কথা কাটা কাটি করে। এক পর্যায়ে শারমিন মাঈন উদ্দিন কে জুতা ছুড়ে মারে। মাঈন উদ্দিন শারমিন কে গলা টিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে পুরনো পানের বড়জে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। শনিবার রাতে বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে এস আই জাকির হোসেন, দেবর মাঈন উদ্দিন কে আটক করে। তার স্বীকার উক্তি অনুযায়ী রাতেই পানের বরজ থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে।

শনিবার রাতেই পয়ালগাছা ইউনিয়নের সুদ্রা গ্রামের মো. আবদুল খালেকের ছেলে মো. সুমন মিয়া কে চুরির অপবাদ দিয়ে এলাকাবাসী পিটিয়ে হত্যা করে। জানা যায়, তিন চারদিন পূর্বে একই গ্রামের ইব্রাহীম হুজুরের খরের মুড়লে কেবা কাহারা আগুন দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইব্রাহীম হুজুরের লোকেরা গ্রামের কয়েকজন কে মারধর করে। ইব্রাহীম হুজুরের লোকেরা আগুনের ঘটনায় সুমন মিয়াকে সন্দেহ করে। শনিবারে সুমন কে চট্রগ্রাম থেকে খবর দিয়ে এলাকায় আসার কথা বলে। গ্রামে ঢুকার সাথে সাথে তার উপর এলাকার কতিপয় লোকেরা  দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে  নিহতের স্ত্রী ১৫ অজ্ঞাত সহ ৩০ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করে। পুলিশ এজাহার নামীয় ৩ আসামীকে আটক করে।

রবিবার ঝলম ইউনিয়নের ঝলম গ্রামের মৃত মোকশত আলীর ছেলে মো. আবদুল কুদ্দুস (৪০) পারিবারিক কলহের জের ধরে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে  থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের কোন স্বজন খোজেঁ পাওয়া যায়নি। হসপিটাল সূত্রে জানা যায়, আবদুল কুদ্দুসের মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্বজনরা লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

এসব হত্যাকান্ডে বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ২টি হত্যাকান্ডের আসামী গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।