ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে বখাটে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার অপমান সইতে না পেরে লাকসামে স্মৃতি আক্তার (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহপাঠি আলম হোসেনকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওই কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যার আগে আলমকে দায়ী করে কয়েকটি চিরকুট লিখে গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে আলম হোসেনকে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশ্রাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে এস.আই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

সংবাদ পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ডি.এস.বি) আলমগীর হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (লাকসাম সার্কেল) নাজমুল হাছান ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশ্রাফ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওইদিন অভিযুক্ত আলম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে লাকসাম থানা পুলিশের এস.আই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আলম স্মৃতিকে উত্যক্ত করা এবং ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউপির অশ্বতলা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্রী স্মৃতি আক্তার গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সবার অজান্তে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ভেতর ফ্যানের সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর তার মা ঘরের ভেতর মেয়েকে ঢাকতে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওড়না কেটে স্মৃতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন শনিবার বিকালে স্মৃতির লাশ দাফন করার পর পরিবারের লোকজন স্মৃতির কলেজ ব্যাগ থেকে তার লিখে যাওয়া কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকৃত চিরকুট লেখা রয়েছে ‘‘এ সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারলামনা। আলম আমার ছবি ফেইসবুকে ছেড়ে দিয়ে অশ্লীল ভাবে চ্যাট করে আমাকে বাধ্য করেছে এ পৃথিবী ছাড়তে। আমি আলমকে কখনো ক্ষমা করবো না। তোমরাও ক্ষমা করোনা’’। এ ছাড়াও আরো বেশ কিছু তথ্য রয়েছে ওই চিরকুটে।

চিরকুট সূত্রে জানা যায়, স্মৃতির সহপাঠি আলম তাকে প্রায় উত্যক্ত করত। এক সময় আলম তাকে হত্যা করারও হুমকি দেয়। বিষয়টি স্মৃতি তার মাকে জানালে তার মা আলমের পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। এতে আলম ক্ষিপ্ত হয়ে স্মৃতির নামে ফেইসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। একসময় স্মৃতির ছবি অশ্লীল ভাবে এডিট করে তা ফেইসবুকে পোস্ট করে। এ বিষয়টি স্মৃতি জানার পর লজ্জায় অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এদিকে স্মৃতির মা অহিদা বেগম জানান, পৌর এলাকার পশ্চিমগাঁও গ্রামের (রাজঘাট) লাল মিয়ার ছেলে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্র আলম তার বন্ধুদের নিয়ে কলেজে যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে উত্যক্ত করত। এক সময় আলম স্মৃতিকে হত্যার হুমকি দিলে সে ভয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি আলমের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করলে স্মৃতিকে উত্যক্ত না করতে আলমকে তার বাবা নিষেধ করে। আলম এতে আরও বেপরোয়া হয়ে স্মৃতির নামে ফেইসবুকে ভুয়া একটি আইডি খুলে অশ্লীল ছবিসহ বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়।

স্মৃতির বাবা বেলাল হোসেন জানান, স্মৃতির ছবি অশ্লীল ভাবে এডিট করে তা ফেইসবুকে পোস্ট করার অপমানে সে গত কিছুদিন থেকে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কলেজে না যাওয়ার কারন জানতে চাইলে সে কিছুই বলত না। আলমের কারনেই আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা ওই ছেলের বিচার চাই।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।