পাল্টে যেতে পারে কুমিল্লার সংসদীয় মানচিত্র

সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ ● একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান কমিশনের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে কুমিল্লার সংসদীয় আসনের মানচিত্র। দেশের প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ন্যূনতম একটি সংসদীয় আসনের বিধান রেখে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনের খসড়া প্রস্তুত করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। এ ক্ষেত্রে আসনের জনসংখ্যার ভারসাম্য, প্রশাসনিক সুবিধা এবং ভৌগোলিক অখ-তার বিষয় বিবেচনা করেই এসব আসনে সীমানায় পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা গেছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লাসহ সারা দেশে প্রায় অর্ধশত সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তমতে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে একটি সংসদীয় আসন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কুমিল্লা সদর আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এতদিন কুমিল্লা সদর আসন ছিল মূলত সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নিয়ে। এবার এ আসন পরিবর্তন হলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন হবে। তা হলে কুমিল্লা সদর আসনের বাকি ৬টি ইউনিয়ন কোথায় যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তিন পাশ ঘিরেই এ ৬টি ইউনিয়ন। এ ছাড়া বিকল্প ধারণা হিসেবে এ ৬টি ইউনিয়নকে আলাদা আলাদা করে পাশের আসনের সঙ্গে যোগ করা হতে পারে বলেও সূত্র জানায়।

অপর একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সীমানা বাড়াতে পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ দুর্গাপুর ও উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে এবং পাঁচথুবী ও জগন্নাথপুর ইউনিয়নের আংশিক নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন বর্ধিত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তা হলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়তন প্রায় ১শ বর্গকিলোমিটার বেড়ে যাবে। সীমানা নির্ধারণের আগে এ প্রস্তাব পাস হলে আদর্শ সদর উপজেলার বাকি ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে কালিরবাজার বরুড়ার সঙ্গে, আমড়াতলী ও পাঁচথুবী বুড়িচংয়ের সঙ্গে এবং জগন্নাথপুর সদর দক্ষিণের সঙ্গে চলে যেতে পারে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রেও কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।

সূত্র জানায়, প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট) আসনের সীমানা। এ সীমানা শুরু হয়েছে ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া সীমান্ত থেকে, আর শেষ হয়েছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ীতে এসে। এ আসনেও ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে এবারের সীমানা পুনর্নির্ধারণীতে। ২০১৩ সালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের সময় এ আসনে জনসংখ্যার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। তাই এ আসনের সীমানা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এবার এ আসনের সীমানা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক কাজ করবে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, কুমিল্লায় লোকসংখ্যার আনুপাতিক হারে এবার কুমিল্লায় ১২টি আসন ফিরিয়ে আনা হতে পারে। এখন কুমিল্লায় রয়েছে ১১টি আসন। এ ক্ষেত্রে নাঙ্গলকোটকে আগের মতো আলাদা আসন দিয়ে সদর দক্ষিণ ও নবগঠিত লালমাই উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন হতে পারে। এ লক্ষ্য নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতাও তা চাইছেন বলে জানা গেছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি আগস্ট মাস থেকেই সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে এ কাজ শেষ করবে ইসি। আগস্টের মধ্যে পূর্বের নীতিমালা পর্যালোচনা করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সেপ্টেম্বরে সীমানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং অক্টোবর-নভেম্বরে সীমানার খসড়া তৈরি করা হবে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খসড়া প্রকাশ, ফেব্রুয়ারিতে দাবি-আপত্তি গ্রহণ এবং শুনানি শেষ করা হবে। এর পর এপ্রিলের মধ্যে সীমানার গেজেট প্রকাশ করা হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৫০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করেছে। ওই সময় ১৭ শতাংশ আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ৮৭টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিল। পরে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫০টির সীমানা নবম সংসদের মতোই রাখা হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লায় বেশি পরিবর্তন আনা হয় ৪টি আসনে। সেগুলো হচ্ছে- কুমিল্লা-৬ (কুমিল্লা আদর্শ সদর), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা), কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) এবং কুমিল্লা-১০ (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট উপজেলা)। এবার ইসি আগে এসব আসনের সীমানা পর্যালোচনা করবে। এর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালের সীমানা নির্ধারণে যেসব আসনে প্রশাসনিক অখ-তা রক্ষা করা হয়নি বা ভৌগোলিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, সারা দেশে সে রকম ৫০টি আসনে ২০১৩ সালে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার কুমিল্লায় অন্তত ৫টি আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।