পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই কুমিল্লা মেডিক্যালে

নিজস্ব প্রতিবেদক ● পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত থেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। শনিবার পঞ্চমদিনেও এ সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। হাসপাতালজুড়ে বিদ্যুৎ না থাকায় হারিকেন ও মোমবাতির আলোতে চলছে আট শতাধিক রোগীর চিকিৎসা। প্রচণ্ড গরমে হাতপাখার বাতাসই একমাত্র ভরসা। ফলে  আলো, বাতাস ও পানি সংকটে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান তাদের স্বজনরা। অনেকে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কিছু বিভাগে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হলেও তাতে চলছে একটি করে বাতি ও ফ্যান। তবে পাঁচ দিনেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি শিশু ওয়ার্ড, অর্থোপেডিক্স, ডরমেটরি, জরুরি বিভাগ ও বর্হিবিভাগে। হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫শ’ বেডের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ রোগী ভর্তি থাকেন। বর্হিবিভাগে সেবা নিতে আসেন হাজারেরও বেশি রোগী। বিদ্যুৎ সংকটের পাঁচ দিন পার হলেও কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ-২ এবং গণপূর্ত বিভাগ এর কোনও সমাধান করতে পারেনি। তারা বলছেন, মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার কেটে যাওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে। গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন আগামী সোমবারের মধ্যে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডের রোগী নার্গিস আক্তার জানান, রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আর বাতাসের জন্য হাতপাখাই তাদের সম্বল।

রোগীর স্বজন কুমিল্লা সদর উপজেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার থেকেই শিশু ও অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। কোনও কোনও রোগীর স্বজনরা বাড়ি থেকে টেবিল ফ্যান এনে জেনারেটরের বিদ্যুত দিয়ে চালাচ্ছেন।

সালমা আক্তার নামের একজন নার্স জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না তারা। ওষুধ ও ইনজেকশন দিতে হচ্ছে মোমবাতির আলোয়।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, ঈদের দিন রাত থেকে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে আলো, বাতাস ও পানির সংকটে শুধু রোগী নয়, নার্স ও চিকিৎসকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা বলেন, আমাদের ধারণা অতিরিক্ত লোডের কারণে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো মাটির নিচে হওয়ায় একটু সময় লাগছে। আশা করি আগামী সোমবারের মধ্যেই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে।