নানা সঙ্কটে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● চার বছর ধরে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নেই। খণ্ডকালীন একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান। সামান্য বৃষ্টি হলেই কলেজে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ-সংকট। এসব কারণে এখানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

কলেজের নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট নামে নগরের আশ্রাফপুর এলাকায় ১ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর কলেজটি চালু করা হয়। শুরুর সময় এখানে একজন অধ্যক্ষ, তিনজন সহকারী অধ্যাপক, চারজন প্রভাষক, দুজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ১০টি স্থায়ী পদ ছিল। ওই সময়েও শিক্ষকের অর্ধেক পদ খালি ছিল। তখন এ প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ বিভাগে ৪০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতো।

কলেজের নথিপত্র ঘেঁটে আরও জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশের ১৬টি গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজের নাম পরিবর্তন করে। এর মধ্যে এ কলেজের নাম কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ নামকরণ করা হয়। ওই বছরের ৫ জুন এ কলেজে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে থেকে ১৯টি বিষয়ে পাঠদানের অনুমতি দেয় কুমিল্লা বোর্ড। ওই অর্থবছরে ৫৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

কলেজের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী বলে, বাংলা আবশ্যিক বিষয়। অথচ এখানে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নেই। খণ্ডকালীন শিক্ষক এনে জোড়াতালি দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। এখানে বর্তমানে ৫৪০ জন শিক্ষার্থী আছে। কিছুদিনের মধ্যেই আরও ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। এখানে মাত্র চারটি শ্রেণিকক্ষ আছে। শিক্ষার্থী অনুপাতে এখানে আরও পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের আশ্রাফপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের পূর্ব পাশে তিনতলা একটি ভবন এবং দক্ষিণ পাশে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন রয়েছে। কলেজের সামনে পানি জমে আছে।

কলেজের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ কলেজে অধ্যক্ষসহ ২৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই সংযুক্ত পদে চাকরি করছেন। চার বছর আগে বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. আবদুস সবুর পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে বাংলা বিভাগে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আবশ্যিক এ বিষয়ে শিক্ষক না থাকার কারণে খণ্ডকালীন একজন শিক্ষক এনে কলেজ তহবিল থেকে বেতন দিয়ে কোনোরকমে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এ কলেজে ১৯টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়।

কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম বলেন, জলাবদ্ধতা এ কলেজের প্রধান সমস্যা। কলেজের চারপাশে উঁচু ভবন নির্মাণ হওয়ায় সব পানি এসে কলেজে পড়ে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বাংলা বিভাগের শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে এখানে আরও বড় একাডেমিক ভবন প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতি মাসেই জনবল-সংকটের বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানানো হয়। কিন্তু জনবলকাঠামো (অর্গানোগ্রাম) তৈরি না হওয়ায় এখানে শিক্ষক পদায়ন করা যাচ্ছে না। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা অনেক চেষ্টা করে সংযুক্ত পদে এসেছেন। আশা করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।’ সূত্রঃ প্রথম আলো

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।