নাঙ্গলকোটে গ্রুপিং দ্বন্দ্বে দিশেহারা তৃণমূল বিএনপি

কুমিল্লার বার্তা রিপোর্ট ● নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপিতে দুই ভূঁইয়া গ্রুপের দ্বন্দ্ব এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আসছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও তাদের অনুসারীদের মাঝে বিরাজমান দ্বন্দ্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ দুই নেতার দ্বন্দ্ব ক্রমেই সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে এ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এদিকে দুই ভূঁইয়ার অন্তঃকলহ ও রোষানলকে পাশ কাটিয়ে দল ও নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা সামছুদ্দিন দিদার, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিন হোসেন মজুমদার, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাহাবুদ্দিন ফারুক, বিএনপি নেতা ফরিদ আহাম্মেদ মজুমদার, সাবেক ছাত্রদল নেতা একরামুল হক মজুমদার, শাহ আলম চৌধুরীসহ একঝাঁক

তরুণ নেতা। উদীয়মান এসব নেতাই এ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাল ধরেছেন। দলের একটি সূত্র জানায়, এসব তরুণ নেতা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে অংশ নেবেন।

জানা যায়, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপিতে চলছে চরম কোন্দল। সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড়স্থ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল গফুর ভূঁইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

গফুর ভূঁইয়া বক্তব্য দেয়ার সময় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়রা জানায়, সাবেক এমপি গফুর ভূঁইয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বৃহৎ একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ দুই নেতার দ্বন্দ্ব নিরসন না করলে আগামী নির্বাচনে দলে এবং ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে নেতাকর্মীদের অভিমত।

দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত করার জন্য আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন এগিয়ে আসায় দলে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য একটি মহল নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির এসব কোন্দল নিরসন ও কোন্দলকারীদের পাশ কাটিয়ে দলের আগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে গফুর ভূঁইয়ার পাশাপাশি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এ উপজেলার তরুণ ও উদীয়মান বিএনপি নেতারা।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি তরুণ নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেয় সে ক্ষেত্রে কুমিল্লা-১০ আসনে এসব উদীয়মান নেতারাই মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাহাবুদ্দিন ফারুক বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে চাই। এ বিষয়ে চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা সাবেক ছাত্রনেতা সামছুদ্দিন দিদার বলেন, নাঙ্গলকোট বিএনপির একটি বিশাল ঐতিহ্য রয়েছে, দলকে সুসংগঠিত করতে দলের ইমেজ ও হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।