দেবিদ্বারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বিদ্যুৎকর্মী নিহত

দেবিদ্বার প্রতিনিধি ● দেবিদ্বারে বিদ্যুৎ বিভাগের গাফলতি ও অসতর্কতার কারনে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপর লাইন মেরামতের কাজ করতে যেয়ে রুবেল মিয়া(২৪) নামে এক বিদ্যুৎ কর্মী নিহত ও অপর এক কর্মী মারাত্মক আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর বাজারে। নিহত বিদ্যুৎকর্মী রুবেল মিয়া নেত্রকোনার সদর উপজেলার ব্রজেন্দ্রপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রসুলপুর বাজারে বৈদ্যুতিক তারে সমস্যা দেখা দিলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের দ্বিতীয় গ্রেডের লাইনম্যান মো. রুবেল মিয়াসহ কয়েকজন কাজ করতে আসে। তখন বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। এসময় রুবেলসহ দুই কর্মী বৈদ্যুতিক খুটি বেয়ে উপরে উঠে হঠাৎ দুই জনই ছিটকে মাটিতে পড়ে মারাত্মক জখম ও আহত হয়।

তাদের দ্রুত দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাহিদা আক্তার রুবেলকে মৃত ঘোষনা করেন। অপর আহত বিদ্যুৎ কর্মীকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাৎক্ষণিক ভাবে আহত বিদ্যুৎ কর্মীর নাম ঠিকানা জানা যায় নি।

সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। এ সময় সহকর্মীদের আর্তনাদে পুরো এলাকা শোকে মুহ্যমান হয়ে উঠে। বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহত রুবেলকে দেখতে আসেন।

কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডি.জি.এম মো. সাদেক জামান বলেন, ‘আমরা শোকাহত। সকালে রসুলপুর বাজারে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে যেয়ে দুই কর্মী বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে উঠে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন মেরামতের কাজ করার সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক শক খেয়ে ছিটকে মাটিতে পড়ে একজন নিহত অপরজন মারাত্মক আহত হয়। আহত বিদ্যুৎ কর্মীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

তিনি আরো জানান, ‘বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় লোকাল লাইন বন্ধ ছিল, সিগ্নাল পেয়েই তারা কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু জাতীয় গ্রীড লাইনটি তখন হয়তো চেক করেনি যার কারনে এদূর্ঘটনাটি ঘটে। অনেক সময় জাতীয় গ্রীড লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকেনা।’

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘এব্যপারে দেবিদ্বার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের পূর্বক নিহত রুবেলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতার মর্গে পাঠানো হয়েছে।’