টানা বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা নগরের নিম্নাঞ্চল

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কোথাও ঘরের সামনে হাঁটুপানি। কারও মাটির ঘর বৃষ্টির পানির কারণে দেবে গেছে। কারও ঘরের ভেতরে, বাইরে পানি থইথই করছে। কারও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে আসবাব নষ্ট হচ্ছে। আবার ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে খাটের ওপর বসে থাকতে দেখা গেল দুই কিশোরকে। কোথাও আবার জলাবদ্ধ রাস্তায় পাড়ার দুষ্টু ছেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরছে। পাড়ার চায়ের টং দোকানগুলোতেও পানি। রাস্তাঘাটে কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটুপানি। জলাবদ্ধতায় তো অশোকতলা ইসহাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার ক্লাসও হয়নি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অশোকতলা এলাকার চিত্র এটি।

কেবল অশোকতলা নয়, নগরের পশ্চিম বাগিচাগাঁও, ডিসি সড়ক, জেলা পরিষদ বাংলো, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম এলাকা ও রেসকোর্স ধানমন্ডি সড়কের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। এ ছাড়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শাখার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও নওয়াব ফয়জুন্নেছা ছাত্রীনিবাসেও পানি উঠেছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা নগরীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে অশোকতলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অশোকতলা ইসহাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর ও পশ্চিম পাশের ভবনে পানি ঢুকেছে। শৌচাগারের ময়লা পানিতে থইথই করছে। এ ছাড়া এলাকার অন্তত ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া নগরের পশ্চিম বাগিচগাঁও ডায়াবেটিক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের সড়কে কোমরসমান পানি দেখা গেল। ডায়াবেটিক হাসপাতাল, জেলা পরিষদ বাংলোর ভেতরেও পানি উঠেছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহআলম খান বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে পানি জমেছে। পানি নামতে না পারায় বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। আমার এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে আছে।’

ইসহাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজেরা আক্তার বলেন, ‘একেতো পুরোনো ভবন, তার ওপর বৃষ্টির পানি। তাই ঝুঁকি এড়াতে গতকাল বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রেখেছি।’

অশোকতলা এলাকার বাসিন্দা কুলসুমা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গত সোমবার রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারিনি। ঘরে পানি, বিদ্যুতের লাইনও নড়বড়ে। বাচ্চাদের নিয়ে কষ্টে আছি।’

নগরের বাসিন্দা লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। মহাপরিকল্পনা নিয়ে নগরে নালা তৈরি ও খাল খনন করলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নগরের পানি নামার বেশির ভাগ পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ভোগান্তি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, অশোকতলা এলাকার পাশে একটি হাউসিং কমপ্লেক্স করায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। তিন-চারজন লোকের কাছে ওই এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। বুধবার থেকে একযোগে ১২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নালা পরিষ্কার করবে। তখন পানি নেমে যাবে। অতি বৃষ্টির কারণে এমনটা হয়েছে। কুমিল্লা নগরীকে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। সুত্রঃ প্রথম আলো

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।