চৌদ্দগ্রামে স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার সাড়ে তিন মাস পর মামলা

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি ● চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ৩ মাস ১৭ দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের উল্লাপাড়া গ্রামের বখাটে মোঃ আজাদ ও তার মা শামসুন নাহারকে আসামী করে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলাটি করেন স্কুল ছাত্রীর বাবা মোঃ বেলাল হোসেন। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে বুধবার সাংবাদিকদের জানান ওসি আবুল ফয়সল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর উল্লাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে আকলিমা আক্তার ঝুমুকে তাদের বসত ঘরে ঢুকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বখাটে মোঃ আজাদ। এতে বাধা দিলে বখাটে আজাদ ঝুমুর গলায় ওড়না পেছিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বখাটে আজাদ ঝুমুরের লাশ ওড়না দিয়ে ঘরের তীরের (বুতুর) সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ঝুমুর মা রুফিয়া বেগম পাশের বাড়ি থেকে এসে দেখে বখাটে আজাদসহ ২-৩ জনকে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে তার আত্ম-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ঝুমুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঝুমুর লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহত স্কুল ছাত্রীর বাবা মোঃ বেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আসামী মোঃ আজাদ বিভিন্ন সময়ে ঝুমুরকে অশালীন আচরণসহ কু-প্রস্তাব দিত। আসামী আজাদ ০১৮৫৯-০৩৭১৯১ এবং ০১৮৬১-৪৫২৯১৩ মোবাইল ফোন নম্বর হতে তাকে খারাপ কথা বলতো। আজাদের কথা না শুনলে এসিড নিক্ষেপ, অপহরণ এবং মেরে ফেলার হুমকি দিত। এ ব্যাপারটি আজাদের পিতা-মাতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোন কাজ হয়নি। উল্টো আজাদ আমাদের শাসাত।

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রভাবশালী লোকজনের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করা যায়নি। ঘটনার তিন মাস সতের দিন পর কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হত্যা মামলা করেছি। আদালত মামলাটি গ্রহণ ও শুনানির পর চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফয়সল জানান, ‘আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার আসল রহস্য জানা যাবে’।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।