কৃষকবন্ধু মতিন সৈকত

কুমিল্লার বার্তা রিপোর্ট ● অধ্যাপক মতিন সৈকত। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি। আদমপুর গ্রামের এই পাখিপ্রেমিক গত এক সপ্তাহে ঝড়ে আহত ২০টি চিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক পাখি খুঁজে বাড়িতে নিয়ে প্রাণী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সুস্থ করেছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পাখিগুলো আকাশে ছেড়ে দেন তিনি।

দাউদকান্দি প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের মডেল। এ প্লাবনভূমিতে রয়েছে ছোট-বড় ১৭০টি মৎস্য খামার। মাছের কারণে এখানে চিল, ইগল, বক, পানকৌড়ি, পরিযায়ীসহ হাজারো প্রজাতির পাখির বসবাস। মৎস্য খামারিরা চাষের ছোট মাছকে রক্ষার জন্য জাল ও সুতা দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী করে রাখে। এতে অনেক পাখি আটকে আহত হয়ে ঝুলে থাকে। কখনো কখনো মারাও যায়।

মতিন সৈকত আহত পাখি খুঁজে বের করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে উন্মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেন। কোথাও পাখি আহত হওয়ার খবর পেলেই ছুটে যান তিনি। ২০০৬ থেকে তিনি ৩৫০টি নানা প্রজাতির পাখি সুস্থ করে ছেড়ে দিয়েছেন। পাখি, বন্য প্রাণী উদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল-নদী পুনঃখননেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। মতিন সৈকতের দেখাদেখি স্থানীয় শিশু-কিশোররা পাখি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছে।

মতিন সৈকত পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। কৃষিতে অবদানের জন্য ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রদান করেন। সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় (১৯৮৭) রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র পান।


মতিন সৈকত ১৯৯৭ সাল থেকে স্থানীয় কৃষকদের ১৫০ বিঘা জমিতে (পৌষ থেকে বৈশাখ) বোরোধান রোপণ থেকে পাকা ধান সংগ্রহ পর্যন্ত যতবার প্রয়োজন ততবার সেচের পানি দেন। এ জন্য পুরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি কৃষকদের দিতে হয় মাত্র ২০০ টাকা। অথচ অন্যত্র সেচ খরচ দিতে হয় ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা।

উপজেলা প্রাণী চিকিৎসক যোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘মতিন সৈকত কালবৈশাখী ঝড়ে আহত বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আমার কাছে নিয়ে আসলে আমি সেগুলো সুস্থ করার জন্য পরামর্শ দিই। আমার পরামর্শে পাখিগুলো সুস্থ হয়েছে। মতিন সৈকত বলেছেন, পাখিগুলো সুস্থ হওয়ায় তা উন্মুক্ত করা হয়েছে।’

দাউদকান্দি রোটারি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. নুরুল গনি তাঁর একটি পাক্ষিক পত্রিকায় লিখেন, ‘মতিন সৈকত কুমিল্লার কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, কিংবদন্তি পরিবেশবিজ্ঞানী। তিনি ২০ বছর ধরে মাত্র ২০০ টাকায় প্রতি বিঘা বোরো ধানে মৌসুমব্যাপী সেচ দিয়ে অধিক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

জাতীয় সংসদ সদস্য এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘মতিন সৈকত ২০ বছর যাবৎ কৃষি উন্নয়নে কাজ করে জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রেখেছেন।’

মতিন সৈকত কৃষকদের সংগঠন দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় আইপিএম-আইসিএম ক্লাবের সভাপতি। নিরাপদ ফসল উৎপাদন আন্দোলন বিষমুক্ত দাউদকান্দি মডেল উপজেলা বাস্তবায়নের উদ্যোক্তা। প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষের দাউদকান্দি মডেলের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত।