কুমিল্লা হয়ে জঙ্গির মরদেহ চাঁদপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের মরদেহ চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের ‘বকশি পাটওয়ারী বাড়ি’তে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত ২টা ৩২ মিনিটে তার মরদেহবাহী গাড়ি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিনটি গাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি পার হয়।

এদিকে শীর্ষ জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের লাশ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন তার বাবা। এছাড়া তিনি লাশ দাফনে অস্বীকৃতি জানানোয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিপুলের বাবা হেমায়েত উল্যাহকে ফাঁসির সিদ্ধান্ত এবং দাফন কার্যক্রমের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানালে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি ছেলে বিপুলের লাশও গ্রহণ করবেন না বলে জানান।

মনিরুজ্জামান বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিপুলকে পারিবারিক কবরস্থানেই দাফনের সিদ্ধান্তের কথা জানালে হেমায়েত উল্যাহ আবার একই কথা বলেন।

তবে অন্য কেউ দাফন করলে সেটি তাদের বিষয় বলে মন্তব্য করেন হেমায়েত উল্লাহ, বলেন মনিরুজ্জামান। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয় বলে মনিরুজ্জামান জানান।

“এই প্রেক্ষিতে বুধবার রাত ৮টার পর থেকে মৈশাদী গ্রামে বিপুলের পারিবারিক কবরস্থানে তার জন্য কবর খোঁড়ার কার্যক্রম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় শুরু হয়।”

এর আগে রাত ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এতে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন।

মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা ‘মুফতি’ আব্দুল হান্নান, জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জনের মধ্যে ‘মুফতি’ হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বিপুলের সঙ্গেই কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে।  একই সময়ে অন্য জঙ্গি রিপনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে।