কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক মরণফাঁদ; ঈদে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রতিটি অংশই যেন মরণফাঁদ। ময়নামতি সেনানিবাস থেকে দেবীদ্বার উপজেলার পৌর এলাকাধীন প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কে শত শত খানা-খন্দক। কোথাও সড়কের অংশ ভারী যানবাহনের চাপে দেবে যাওয়ায় প্রতিনিয়তই ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। হতাহত হচ্ছেন অনেকেই। দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে যানবাহনের পাশাপাশি যানবাহনে থাকা কোটি কোটি টাকার মালামালও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়কটির খানাখন্দক মেরামতে ইট,বালু দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার স্বল্প সময়ের মধ্যেই আবারো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এছাড়াও মহাসড়কের পাশে গরুর হাট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ময়নামতি এলাকায় মহাসড়কের পাশেই এবার বসছে গরুর হাট। ফলে এখানেও হচ্ছে থেমে থেমে যানজট।

সরেজমিন মহাসড়কের বিভিন্স্থান ঘুরে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ব্যস্ততম এই মহাসড়ক পথে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম,পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি সিলেট থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ভারবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যান, লরি চলাচল করছে। প্রতিটি যানবাহন অতিরিক্ত ওজনের মালামাল বহন করায় সড়কটির বেহাল দশা। সড়কটির ময়নামতি সেনানিবাস সঙলগ্ন এলাকা থেকে ফরিজপুর, সাহেবের বাজার, তুতবাগান, কাটাজাঙ্গাল, হরিণধরা, শরীফপুর, দেবপুর, রামপুর, কংশনগর, কালিকাপুর, জাফরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, চরবাকর, ভিরেল্লা,বাড়েরা, দেবিদ্বার পৌর এলাকাসহ মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দকে ভরে গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এসকলস্থানে ইট,বালু দিয়ে নাম মাত্র সংস্কার করার কারণে অল্পসময়ের মধ্যেই সেগুলো নস্ট হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ায় প্রতিদিনই যান চালকসহ যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ বাড়ছে। মহাসড়কের ময়নামতি ফরিজপুর এলাকায় সম্প্রতি সড়কের একটি অংশ দেবে গেলে সেখানে বেশ কিছু মালবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যান, কন্টেইনারবাহী লরি দুর্ঘটনাকবলিত হয়।

এতে কয়েক কোটি টাকার মালামাল নষ্ট সহ বেশ কিছু লোকজন আহত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেখানে সংস্কার করার পর বৃহস্পতিবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে মহাসড়কের সাহেবের বাজার, হরিণধরা, দেবপুর, কংশনগর, দেবীদ্বার এলাকায় সড়কের এতটাই বেহাল দশা যে যানবাহনের চালকরা গাড়ির গতি কমিয়ে ধীর গতিতে উল্লেখিত স্থানগুলো অতিক্রম করছে। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌছতে না পেরে জণগনের দুর্ভোগ বাড়ছে।

মহাসড়কের এই দুরাবস্থার বিষয়টি জানতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফ উদ্দিনের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।