কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বুধবার পৌরনীতি প্রথম পত্র ও জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের বদলে উভয় বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিলি করা হয়েছে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীববিজ্ঞান ও পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন নতুন করে ছাপার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বোর্ড।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, বুধবার সকাল ১০টায় পৌরনীতি প্রথম পত্র ও জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, তাঁদের দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রসচিবকে জানানো হয়। এরপর বিষয়টি বোর্ডকে অবহিত করা হয়। পরে ট্রেজারি থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্ন এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেহেতু দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের প্যাকেট খোলা হয়, সে জন্য ওই প্রশ্ন বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পৌরনীতি ও জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন নতুন করে ছাপার জন্য ঢাকায় বিজি প্রেসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার নতুন প্রশ্ন কুমিল্লা বোর্ডের ছয় জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্ন বিতরণ করা হবে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুল খালেক কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে  বলেন, ‘নাঙ্গলকোটের ঘটনায় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. আবদুস ছালামকে আহ্বায়ক করে একটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. জামাল নাসেরকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) প্রতিবেদন দেবে। ইতিমধ্যে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছেন। আমিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিজে হাজির হয়ে বিষয়টি তদারকি করছি। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাদেক হোসেন ভূঁইয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল হানিফ। যোগাযোগ করা তাঁরা জানান, ভুলে এমনটা হয়েছে।