কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীরা আতঙ্কে

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চার দিনে অন্তত ১৫ জন দলীয় নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে হলছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ১৫ জনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একজন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতিও রয়েছেন। এ ঘটনার পর শতাধিক কর্মী আতঙ্কে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে প্রথম ব্যাচের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইলিয়াস মিয়াকে সভাপতি ও গণিত ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল ইসলাম ওরফে মাজেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি ছিল। ৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ইলিয়াস ও রেজাউল এবং তাঁদের অনুসারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে মারধরের শিকার হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কাউছার মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আঁখি আলম রকি ও ছাত্রলীগের কর্মী মুহাম্মদ আলিম। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দশম ব্যাচের শুভ্র ও লোকপ্রশাসন বিভাগের আমিনুল ইসলাম নামের দুই ছাত্রলীগ কর্মী মারধরের শিকার হন। তাঁরা সবাই হল ছেড়েছেন।

জসিম উদ্দিন জানান, ১২ জুলাই রাত ১২টার দিকে তিনিসহ চারজন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে সভাপতি ইলিয়াসের কক্ষে দেখা করতে যান। কথাবার্তার একপর্যায়ে ইলিয়াস অন্য তিনজনকে বের করে দিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন এবং অভিযোগ তোলেন, তিনি (জসিম) তাঁর (ইলিয়াস) নামে ভুয়া ই-মেইল ঠিকানা খুলেছেন। বিষয়টি অস্বীকার করলে তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু হয়। একপর্যায়ে রেজাউল ইসলাম তাঁকে জাপটে ধরে মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেন। অনেকক্ষণ পেটানোর ফলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরদিন ভোরে জ্ঞান ফিরলে এক ছেলের সহায়তায় তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। বিষয়টি কাউকে বললে মামলার হুমকি দেওয়া হয়।

হল থেকে বের করে দেওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মহিউদ্দিন নাবিল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, জসিম উদ্দিন, কাউছার মাহমুদ, সাদ্দাম হোসেন, মাসুদ আলম, তাভির তমাল, মোহাম্মদ তানভীর, মুহাম্মদ আলিম ও আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া কবি নজরুল হলের অনেক ছাত্রলীগ কর্মীকে হল ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে। অনেকে ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক রেজা-ই এলাহী বলেন, ‘বুধবার থেকে আমার ও সাবেক সভাপতির অনুসারীদের হলে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি নিজেও মাস্টার্স না করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছি। ছাত্রলীগ করে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সভাপতিকে জানানো হয়েছে।’ এখন পর্যন্ত ২৫-৩০ জন নেতা-কর্মী এভাবে নাজেহাল হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী অন্তত ১০ জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁদের অপরাধ, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী ছিলেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস মিয়া বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি ফেক আইডি (ভুয়া ই-মেইল) খুলে অপপ্রচার চালিয়েছেন জসিম। তিনি মারধর এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ রোববার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাকে কেউ বলেনি। এখনই প্রথম শুনলাম। এ ব্যাপারে খোঁজ নেব।’

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।