কুমিল্লা নগরীতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি হলেই কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন সড়কের পানি নালা উপচে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনার মধ্যে ঢুকে পড়ে। পানিপ্রবাহের পথ রুদ্ধ হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার ওপর সড়কের দুই পাশে কোথাও কোথাও নালা না থাকায় পানি সরতে পারছে না। এতে করে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আর শহরতলির চানপুর এলাকার বাসিন্দারা বছরের পাঁচ মাসই থাকে পানিবন্দী। ওই সংকট দূর করার জন্য কোনো ধরনের মহাপরিকল্পনা নেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের।

ফলে ভোগান্তি নিয়েই বসবাস করছে নগরের পাঁচ লাখ বাসিন্দা। জলাবদ্ধতা কুমিল্লা নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা বলে মনে করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

কুমিল্লা নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের অন্তত ১৫টি ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি সড়কের মধ্যে জমে আছে। পানি জমে থাকায় সড়কে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় ওই সব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নগরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকার ফরিদ ফাইবারের পশ্চিম ও উত্তর পাশের সড়কে পানি জমে আছে। একই অবস্থা আমেনা ট্রেডার্স ও বেঙ্গল ড্রাগসের সামনে। এ ছাড়া মিনার অ্যালুমিনিয়ামের উত্তর পাশের সড়কেও জলাবদ্ধতা রয়েছে। অশোকতলা জামে মসজিদের সামনে, রেসকোর্স ধানমন্ডি সড়ক, ডিসি সড়ক, টমছমব্রিজ থেকে মেডিকেল কলেজ সড়ক, বাদুরতলা সড়ক, কুমিল্লা ডায়াবেটিক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের সড়কে পানি জমে আছে।

এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলে কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের সব দোকানপাট, দক্ষিণ চর্থা এলাকার বাসাবাড়ি, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, জেলা পরিষদ বাংলো ও তার সামনের সড়ক, কারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীকে বিতিকিচ্ছি অবস্থার মধ্য দিয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। এ ছাড়া দু-তিন দিন পানি জমে থাকলে পচা পানির গন্ধে ঘরে থাকতে পারছে না নগরবাসী।

স্টেডিয়াম মার্কেটের ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই পানি দোকানের ভেতর ঢুকে পড়ে। এতে ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়।

চানপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসানাত বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বছরে চার-পাঁচ মাস পানি জমে থাকে।’

২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ টমছমব্রিজ সড়কের দুই পাশে নালা না থাকায় সড়কে পানি জমে আছে। এ ছাড়া আশ্রাফপুর এলাকায়ও পানি জমে আছে।

নগর ভবনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরে ১৭৭ দশমিক ১৪ কিলোমিটার নালা আছে। এর মধ্যে ১০৫ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার কাঁচা। এ ছাড়া ১৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল রয়েছে। এ ছাড়া নগরে ৪৮২ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি রাস্তা ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কুমিল্লা নগরের পানি নামার প্রায় সব পথই রুদ্ধ হয়ে গেছে। কেবল নগরের দক্ষিণ দিকের একটি পথ খোলা রয়েছে। নগরের পানি ওই পথ দিয়ে গঙ্গাইজুড়ি খালে গিয়ে পড়ে। এরপর ওই পানি ডাকাতিয়া নদীতে চলে যায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে গঙ্গাইজুড়ি খাল খনন না হওয়ায় ঠিকমতো পানি যেতে পারছে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘এবার কয়েক মাস নির্বাচনের কারণে আমি দায়িত্বে না থাকায় নালার ময়লা-আবর্জনা যথাসময়ে পরিষ্কার করা হয়নি। তা ছাড়া নগরবাসী বাড়ি করার সময় এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দিতে চায় না। ফলে পানি নামতে পারে না। যে কারণে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা দূর করতে সময় দিতে হবে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।