কুমিল্লায় ৬৭৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় ৬৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম, মুরাদনগর, দেবীদ্বার, বরুড়া, নাঙ্গলকোট ও দাউদকান্দি উপজেলায় শূন্যপদের সংখ্যা বেশি। এতে করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৬ উপজেলায় ১ হাজার ৯৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩২৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। ৬৭৩ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ১৬৪টি পদের মধ্যে ৬৯টি, মুরাদনগরে ২০১টির মধ্যে ৬৯টি, দেবীদ্বারে ১৭৭টির মধ্যে ৬৫টি, বরুড়ায় ১৪৫টির মধ্যে ৬১টি, নাঙ্গলকোটে ১৪১টির মধ্যে ৫৯টি, দাউদকান্দিতে ১৪৩টির মধ্যে ৫৮টি, মনোহরগঞ্জে ৫৭টির মধ্যে ৩৯টি, তিতাসে ৮৫টির মধ্যে ৩৭টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০৩টির মধ্যে ৩৬টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১৪৮টির মধ্যে ৩৪টি, হোমনায় ৮৭টির মধ্যে ৩২টি, চান্দিনায় ১২৮টির মধ্যে ২৬টি, বুড়িচংয়ে ১৩৭টির মধ্যে ২৫টি, মেঘনায় ৫৬টির মধ্যে ২৩টি, লাকসামে ৭৬টির মধ্যে ২৩টি ও আদর্শ সদর উপজেলায় ১০৮টি পদের মধ্যে ১৭টি পদ শূন্য।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ২০০৯ সালে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা তাঁদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক করার জন্য আদালতে মামলা করেন। সম্প্রতি ওই মামলার রায় হয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ৬৫ শতাংশ এবং নতুন করে ৩৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার রায় হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন সহকারী শিক্ষকদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। ওই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর নথিপত্র যাচাই করে পদোন্নতি দেওয়া হবে। শিগগিরই ওই সংকট কাটবে। এত দিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।