কুমিল্লায় মুফতীসহ ৩ জনকে ছেড়ে দিতে মুক্তিপণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লায় মুফতী মাওলানা মোস্তাকুন্নবী ও তার গাড়ির চালকসহ ৩ জন নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও তাদের সন্ধান মেলেনি।

থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্নস্থানে অভিযান চালালেও মুফতী মোস্তাকুন্নবীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ট্র্যাকিং করে অবস্থান জানতে না পারায় তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এরই মধ্যে নিখোঁজ মুফতী মোস্তাকুন্নবীর মোবাইল ফোন থেকে তার স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। এদিকে অবিলম্বে ৩ জনের সন্ধান দাবিতে শুক্রবার বিকেলে নগরীর লাকসাম রোডস্থ জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে কুমিল্লা জেলা ক্বওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয় এবং তাদের সন্ধান দাবি করে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও নিখোঁজদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কোটবাড়ি এলাকার সুধন্যপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তুমচর গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতী মাওলানা মোস্তাকুন্নবী গত বুধবার রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ওয়াজ মাহফিল শেষে তার সহযোগী ছাত্র খায়রুল ইসলামসহ একটি প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-২০৭১) করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার এলাকায় পৌঁছেন এবং ওই সময় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। এতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বিষয়ে মুফতী মাওলানা মোস্তাকুন্নবীর ঘনিষ্টজন হাজী শফিকুল ইসলাম সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করেন।

এর পর থেকে তাদের সন্ধানে অভিযানে মাঠে নামে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম। কিন্তু শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

হাজী শফিকুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিখোঁজ মুফতী মোস্তাকুন্নবীর মোবাইল ফোন থেকে তার ছোট ভাই মাওলানা মারুফ বিল্লাহর কাছে তাদের মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

এদিকে মুফতী মোস্তাকুন্নবীসহ ৩ জনের সন্ধান দাবিতে শুক্রবার বিকেলে নগরীর লাকসাম রোডস্থ জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে কুমিল্লা জেলা ক্বওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এসময় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিখোঁজদের সন্ধানের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বেধে দেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান।

এতে বক্তব্য রাখেন ক্বওমী মাদরাসা সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ ক্বওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের সহ-সভাপতি শাইখুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, মুফতী আবুল হাসান, জামিল আহমদ, মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে।