কুমিল্লায় বিএনপি, যুবদল নেতার কার্যালয়সহ ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লা মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়, যুবদল নেতার কার্যালয়সহ ১৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের তিনটি এলাকায় ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সচিব মো. হেলাল উদ্দিন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম সম্রাট খীসা উপস্থিত ছিলেন।

নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তত্কালীন শহর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বিল্লাল। মার্চ মাসেই তিনি ছোটরা সরকারি কলোনি ও জেলখানা এলাকাসংলগ্ন নালা দখল করে টিনশেড ভবন নির্মাণ করে তা ওয়ার্ড কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন। এখানে তিনটি কক্ষ ছিল। এটি নির্মাণের জন্য কুমিল্লা সিটি করপোরেশন থেকে তিনি কোনো অনুমোদন নেননি। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে গত পাঁচ বছর নগর ভবন থেকে কাউন্সিলর কার্যালয়ের নামে প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা ভাড়া হাতিয়ে নেন। গত ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এরপরও তিনি ওই কার্যালয় নিজের দখলে রাখেন।

দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটরা সরকারি কলোনির সীমানাপ্রাচীর লাগোয়া বড় আকারের নালার ওপরে নির্মিত টিনশেড ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যুবদলের নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মো. বিল্লাল বলেন, ‘আমার নিজের টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণ করে জনগণের সেবা দিয়েছি। জায়গার মালিক কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও আমি এখানে বসতাম। এটা এখন আমার ব্যক্তিগত অফিস। সিটি করপোরেশন ভেঙে দিয়েছে আমি কী করব।’

একই দিন দুপুরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কুমিল্লা নগরের দক্ষিণ চর্থা নবাববাড়ি এলাকায় ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়সহ চারটি অবৈধ স্থাপনা এবং মনোহরপুর সদর হাসপাতাল এলাকায় তরকারির দোকান, আসবাবের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের আটটি স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

সিটি করপোরেশনের সচিব মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নগরের বিভিন্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।