কুমিল্লায় বিএনপির বন্ধ কার্যালয় খুলবে কবে?

মাহফুজ নান্টু  ● একটি মর্যাদার রাজনৈতিক লড়াই শেষ হলো কুমিল্লায়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আ’লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা আর জনসংযোগে পুরো নগরী ছিল সরগরম। রামঘাটস্থ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আ’লীগের অফিসের দরজা বন্ধ হয়নি গত এক মাসের বেশি সময়জুড়ে কেন্দ্রীয়, জেলা উপজেলার নেতাদের পদচারণায় গিজগিজ করতো কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আ’লীগ অফিস। কিন্তু এর বিপরীত দৃশ্য দেখা গেছে কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডস্থ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে। গত হওয়া কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু দ্বিতীয় বারের মত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলেও দলটির নির্বাচনী কোন কার্যক্রমই দলীয় অফিসে হয়নি।

নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত  হয়েছে দুটি অফিস। এর মধ্যে একটি হল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিনের ধর্মসাগরপাড়স্থ রাজনৈতিক কার্যালয় অপরটি হল কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নানুয়া দিঘির পারস্থ নিজস্ব বাসভবন। সাধারণ নেতাকর্মীদের বক্তব্য, যে কোন একটি ছোট কাজেও যদি দলীয় অফিসটি কিছুক্ষণের জন্যও খোলা থাকত তাহলে জেলার বাহির থেকে আসা জাতীয় নেতারা জেলা বিএনপির অফিসটি দেখত। শুধু নির্বাচনের সময়ই না, নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই বিএনপির এই প্রধান অফিসটি বন্ধ রয়েছে এবং নির্বাচনের আজ ৫ দিন গত হলেও এখনো কোন নেতাকর্মী অফিসটি খুলেও দেখে নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, আমাদের নব নির্বাচিত মেয়র মহোদয়কে অভিনন্দন জানাতে এসে যে সকল নেতাকর্মী ও শুভার্থীরা ফুল দিতে আসছেন সাক্কু ভাইয়ের বাসায় এই ফুল দেওয়ার কিছু একটা অংশ যদি দলীয় অফিসে করা হতো তাহলে ফুল দেওয়া নেওয়ার উছিলায় এক দিকে যেমন দলীয় অফিসটি নেতাকর্মীদের দৃপ্ত পদচারনায় মুখরিত থাকত অপর দিকে সাধারণ কর্মী সমর্থকরাও চাঙ্গা হয়ে উঠত। দলীয় অফিসে এসে খোশ গল্পে মেতে থাকত। ফুরে ফুরে মেজাজে ভরপুর হয়ে উঠত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির এই অফিসটি।

দীর্ঘদিন ধরে  খোলা হয়নি বিএনপির  কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ের বন্ধ ফটক। আর এ কারণে বর্তমানে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঘুরে ফিরে আলোচনায় বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে,  কবে সরব হবে  তাদের রাজনৈতিক মেলবন্ধনের স্থানটি?

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয়  বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক  মোস্তাক মিয়া বলেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনটি যদিও স্থানীয় সরকারের, কিন্তু দলীয় প্রতীক এখানে বড় বিবেচ্য বিষয় ছিল। আপনারা সবাই একটু সচেতনভাবে খেয়াল করে দেখবেন সারা দেশেই দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মর্যাদার লড়াই ছিল কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর এ কারণে এখানে কেন্দ্রীয় শতাধিক নেতা প্রতিদিন কুমিল্লায় অবস্থান করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা উপজেলা পর্যায়ে হাজারো নেতাকর্মীদের আগমন ঘটেছে। এত নেতাকর্মী নিয়ে কান্দিরপাড়স্থ আমাদের প্রধান অফিসে সিটি নির্বাচনের কার্যক্রম সহজ হতো না। কেননা অফিসটি যে পরিমাণ স্থানজুড়ে আছে, তাতে শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সাথে সহ¯্রাধিক রাজনৈতিক সহযোগী কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কোন মিছিল মিটিং কিংবা আলোচনার সভা করা যেত  না। স্বল্প পরিমাণ জায়গায় এত নেতাকর্মীদের আসন সংকট হয়ে যেত। এছাড়াও নেতাকর্মীদের ভিড়ে সামনের গুরত্বপূর্ণ সড়কটিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো। সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘœ ঘটতো।  আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি। মানুষের সমস্যার জন্য রাজনীতি করি না। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে গত সিটি নির্বাচনের দলীয় সকল কার্যক্রম কুমিল্লা (দ:) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পন্ন করেছি। তিনি আরো জানান,  সামনের যে কোন সাংগঠনিক কাজে অবশ্যই বিগত দিনের মত কান্দিরপাড়স্থ কার্যালয়টিই আমাদের দলের সকল নেতাকর্মীদের জন্য একমাত্র স্থান হিসেবে সঞ্চারিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ত্রান ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক  হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন,আমাদের দলীয় অফিসটি তুলনামূলক ছোট এবং এখানে একটিই মাত্র রুম আছে। নির্বাচনের  সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য কিছু গোপনীয় বিষয় থাকে। যা কান্দিরপাড়স্থ কার্যালয়ে সম্ভব হতো না। গত বিশ দিনেরও বেশি  সময় ধরে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর প্রচার-প্রচারণায় প্রতিদিন অনেক গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব গাড়ি কান্দিরপাড় কার্যালয়ে পার্ক করা সম্ভব ছিল না বলেই নগরীর ধর্মসাগরপাড়স্থ আমার রাজনৈতিক কার্যালয়টি ব্যবহার করা হয়। এখানে সামনে খোলা মাঠের মত থাকায় সকল নেতাকর্মী স্বত:স্ফূর্তভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছে। আর এতে করে আমাদের বিজয়ও সুনিশ্চিত হয়েছে।

কান্দিরপাড়স্থ দলীয়  কার্যালয়ে কবে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে  হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন জানান, অবশ্যই এখন থেকেই। আজ থেকেই দলীয় সকল কার্যক্রম কান্দিরপাড়স্থ কার্যালয় থেকে পরিচালিত হবে।