কুমিল্লায় নিত্যনতুন কৌশলে শতাধিক স্পট দিয়ে ঢুকছে মাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লা জেলার ৫টি উপজেলার ভারত সীমান্তের শতাধিক স্পট দিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন কৌশলে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। মহানগর ছাড়াও  এ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম-পাড়া, মহল্লায় বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য।

অনুসন্ধানে সূত্রে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, আদর্শ সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভারত সীমান্তের অন্তত শতাধিক স্পট দিয়ে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, বিভিন্ন রকমের মদ, হুইস্কিসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রতিদিনই দেশে প্রবেশ করছে। ফলে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ রাতারাতি ধনী হওয়ার লোভে এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, পাচারকৃত এসব মাদকদ্রব্যের সিকিভাগও ধরা পড়ে না বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি), র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের অভিযানে। মাদকদ্রব্য পাচারকারীদের কৌশলের কাছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও যেন অসহায়।

এছাড়া বর্তমানে বাকপ্রতিবন্ধীদের মাধ্যমেও পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা। ফলে এরা ইয়াবাসহ ধরা পড়লেও তারা মূল মাদক ব্যবসায়ীর নাম, পরিচয় কিছুই জানাতে পারে না। স্বীকারোক্তিমূলক কোনো জবানবন্দিও দিতে পারে না। সীমান্তের পয়েন্টগুলো থেকে মৌসুমী ফল তরমুজ, কাঁঠাল, লাউ, কুমড়ার ভেতর ঢুকিয়ে ভারত থেকে আনা হচ্ছে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক। মিষ্টি ও শাড়ির প্যাকেট, গিফট বক্স, দুধের কলসি, পানির বদনায় করেও পাচার হয়ে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদক।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কুমিল্লাকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি এবং সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, র্যালিসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ৭ মাসে শুধুমাত্র বিজিবি আটক করেছে কমপক্ষে ২২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।