কুমিল্লায় ধর্ষকের বিচার চেয়ে চিরকুট রেখে তরুণীর আত্মহত্যা

মো. কামাল উদ্দিন ● দাখিল পরীক্ষার ফলাফল যাই হোক, একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা ছিল দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রুমি আক্তারের (১৫)। বাবা-মায়ের স্বপ্নও ছিল তাই।

কিন্তু তিন বখাটে তছনছ করে দিয়েছে রুমি ও তার পরিবারের সব স্বপ্ন। মৃত্যুর আগে রুমির হাতের লেখা চিরকুটেও ছিল তার স্বপ্ন, ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদের কথা।

তিন ধর্ষকের দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের পর রুমি বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে বলেন, ‘তিন হায়েনা মিলে আমাকে নির্যাতন করেছে, তাই নিজেই আমি আমার জীবন শেষ করে দিলাম।’

মঙ্গলবার রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবগঠিত বাঙ্গরা বাজার থানাধীন সীমানারপাড় গ্রামে এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বুধবার থানা পুলিশ ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

জানা গেছে, জেলার মুরাদনগর উপজেলার সীমানারপাড় গ্রামের আবুল কাশেমের কন্যা রুমি আক্তার সম্প্রতি দাখিল পরীক্ষা শেষে ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। ফলাফল প্রকাশের পর তার ইচ্ছা ছিল কলেজে ভর্তি হওয়ার।

তার মা নাজমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার বাবু, সাকিব, আক্তার হোসেনসহ কয়েকজন বখাটে তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

পরিবারের ধারণা, রাতে রুমি বাসার বাইরে বাথরুমে গেলে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা তিন বখাটে তাকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির পাশে ধর্ষণ করে।

বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রুমির ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। আত্মহত্যার আগে স্থানীয় তিন যুবক কর্তৃক তাকে পাশবিক নির্যাতন ও তারা তার মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করে একটি চিরকুট লিখে রেখে গেছেন রুমি।

চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, ‘বাবা আমার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী আপনি তাদের কাউকে ছাড় দেবেন না। মা-বাবা আমি বেঁচে থেকে জীবনে ক্যারিয়ার গঠন করবো বলে ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আমার জীবনে তা আর হলো না, কারণ আক্তার, শাকিব ও বাবু এই তিনজন মিলে আমাকে নির্যাতন করেছে। তাই আমি আমার নিজের জীবন নিজে শেষ করে দিয়েছি, যারা আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের কাউকে ছাড়বেন না বাবা। ১১ তারিখ মঙ্গলবার রাতে আমি এই তিন হায়েনাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি।’

এদিকে ধর্ষকরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা এ বিষয়ে সরাসরি কেউ মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, চিরকুটে লেখা তিন বখাটে যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের করা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রুমির পরিবারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, রুমির মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রুমির সহপাঠীরা। তারা জানান, মৃত্যুর আগে কেউ কোনো দিন কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা লিখে যায় না, চিরকুটে থাকা বখাটেদের আটক করলেই প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে জানান, তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেকের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের লিখে যাওয়া ও উদ্ধারকৃত চিরকুটে যেসব তথ্য রয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই তিন যুবক এলাকায় নেই বলেও দাবি করেছেন ওসি।