কুমিল্লায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের অর্ধেকও সরবরাহ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার ১৭টি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট এবং কুমিল্লা মহানগরসহ আশপাশের এলাকায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (পিডিবি) গ্রাহকদের প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ চাহিদা রয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার প্রায় ৫শ’ মেগাওয়াট বিদু্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না বিদ্যুত্ বিভাগ। পিডিবি গ্রাহকদের চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ পূরণ করতে পারলেও পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে পারছে না। এদিকে গ্রামীণ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা চাহিদার তুলনায় ২০ ভাগ বিদ্যুতেরও সরবরাহ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারিসহ ভারী শিল্প-কারখানার উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার চান্দিনা সদর দপ্তরের অধীন পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এলাকায় জেলার চান্দিনা, বরুড়া, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলায় ৩ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৮০ মেগাওয়াট। এ ৪টি উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামেই ঘন ঘন লোডশেডিং ও নিয়মিত বিদ্যুত্ সরবরাহ না পেয়ে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ সমিতির আওতাধীন এলাকায় তেমন কোনো শিল্প কারখানা না থাকলেও কর্তৃপক্ষ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত্ও সরবরাহ করতে পারছে না। এ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সমিতির জিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৫০-৬০ মেগাওয়াট। এতে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যদি জাতীয় গ্রিডে উত্পাদন বাড়ে তাহলেই গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-৪ এর আওতায় রয়েছে জেলার লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা। এখানে ১ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের জন্য ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ চাহিদা থাকলেও প্রয়োজনের অর্ধেক বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে পারছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।