কুমিল্লায় কবর খুড়ে কোটি টাকার ম্যাগনেট পিলার চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লায় কবরস্থানের মাটি খুড়ে বৃটিশ সীমানা নির্ধারন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ম্যাগনেট পিলার স্থানীয় ৭-৮জন প্রভাবশালী রাতের আধাঁরে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত  বৃহস্পতিবার রাতে। দিনের আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে এ খবরটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কবরস্থানের  ১০-১৫ফুট চারপাশে গভীর করে মাটি খুড়ে ম্যাগনেট পিলার নিয়ে যায়। এ নিয়ে বুড়িচং থানা প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।

স্বরেজমিনে ঘুরে জানা যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের আহম্মেদ আলীর বাড়ির একটি পুরাতন পারিবারিক কবরস্থানের দক্ষিণ পাশ থেকে দুটি মানব শিশুর কবর সহ মাটি খুড়ে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের লোকজনের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার রাতের আধাঁরে সীমানা নির্ধারনকারী ম্যাগনেট পিলার চুরি করে নিয়ে যায়।

শনিবার শ্রীমন্তপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায় গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল দূর্বৃত্ত কবরস্থানের দক্ষিণ পাশ দিয়ে ১০-১৫ফুট মাটি গভীর করে খুড়ে রেখেছে। ওই স্থানে একটি তালগাছ, একটি একাশি কাঠের গাছ ছিল একই স্থানে ওই বাড়ির জাকির ও আবুল খায়েরের দুই নব জাতকের কবর ছিল বলে বাড়ির আবুল বাশার নামের এক বৃদ্ধ জানায়।

কবরস্থানের মাটি কেন খুড়া হয়েছে এই নিয়ে তার নিকট জানতে চাইলে এই বিষয়ে কোনো জানে না বলে জানান, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এসময় আহম্মেদ আলীর বাড়ির একাধিক মহিলা ও পুরুষকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন রাতে এখানে কি হয়েছে তা আমরা জানি না। এছাড়া কবরস্থানে রাতে আমরা আসি না।

বাড়ির লোকজন আরো জানায় কবরস্থনের তালগাছ, কাঠের গাছ এবং কবর খুড়ে গভীর গর্ত করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী রহস্যজনক গর্তটি দেখার জন্য আসে। এখানে আসলে কি ছিল কেউ তা বলতে পারছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানায়, ৮/৯ বৎসর পূর্বে ঘটনাস্থলে কেউ মোবাইল নিয়ে গেলে সেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যেতো না এবং কবরস্থানের সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের জমিতে রেডিও নিয়ে গান শুনতে গেলে রেডিও বাজতো না। স্

থানীয় আরো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন রাতে ঘটনাস্থলে স্থানীয় শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত মুজাফ্ফর আলীর ছেলে আবদুল মান্নান (৫৫) ও আবদুল হান্নান (৬০), একই গ্রামের মৃত হায়দর আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন পক্কু (৫০), আনন্দপুর গ্রামের মৃত আবদুল হাকীমের ছেলে হোসেন (৫৫)সহ আরো ১০-১২জনের একটি দল রাতের আধারে কবরস্থানে খুড়াখুড়ি করতে দেখেন। ওই বাড়ির দুই একজন মহিলা এগিয়ে গেলে তারা এখানে কি করছে জানতে চাইলে মাটি খুড়াখুড়িকারীরা জানান আমরা ব্যবসা করে একভাগ লাভ আপনাদেরকে দেবো কাউকে কিছু বলা যাবে না। এছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধুমকি ভয়-ভীতি দেখায়।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায় বৃটিশ আমলে  ভারতীয় সীমান্তে সীমানা নির্ধারনের জন্য সীমানা প্রাচীর বা সীমানা খুটি হিসেবে মহামূল্যবান এবং কোটি কোটি টাকা মূল্যের ম্যাগনেট পিলার সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে ওই কবরস্থানের দক্ষিন পাশে এরকম একটি ম্যাগনেট পিলার বসানো ছিল। যা ওই প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে এখানে এটি আবিষ্কার করে এবং তা গত বৃহস্পতিবার রাতের আধারে মাটি খুড়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় আরো একাধিক সূত্র জানায়, এলাকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে শ্রীমন্তপুর এম এ ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো; জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার একটি তক্কা ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোর্টে একটি মামলা চলছিল গত ২০১৪ ইং সনে। স্থানীয় চেয়ারম্যান মো: নুরুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সরদারদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংশা হয়।

এদিকে ওই কবরস্থানের মাটি খুড়ে রাতের আধাঁরে সীমানার ম্যাগনেট পিলার নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এলাকার সাধারন মানুষ ওই চক্রটির নাম সর্বত্র বলাবলি করছে। কেউ কেউ আবার এলাকায় নেই বলেও অনেকে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে আবদুল মান্নানের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খবর শুনেছি। সীমানার ম্যাগনেট পিলার নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আপনি জড়িত রয়েছেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি এ ঘটনার সাথে কোনোভাবে জড়িত না এবং এখানে কি আছে তা আমি জানি না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আমার নাম প্রচার করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ  মনোজ কুমার দে বলেন এ ধরনের একটি খবর আমি শুনেছি। আমাকে এ খবরটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে শনিবার দুপুরে যাবার কথা। এ বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযোক্তদের বিরোদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফজলুল জাহিদ পাভেল বলেন,  এ ধরনের খবর আমি শুনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুড়িচং থানার ওসিকে আমি বলেছি।