কুমিল্লার বাজারে গরু প্রচুর, ক্রেতা কম

নিজস্ব প্রতিবেদক ● মাত্র দুই দিন বাকি। কিন্তু ক্রেতা এখনও অনেক কম কুমিল্লার গরুর বাজারে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাজারের আশপাশের দোকানিরা গরু কিনে নিয়ে যেতে দেখছেন অনেক কম। কিন্তু কুমিল্লার গরুর হাট-বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় প্রচুর গরু উঠেছে। হাটের ইজারাদাররা হাট-বাজারগুলো নানাভাবে সাজিয়ে প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সবচেয়ে বেশি ক্রেতা আসবে বলে ধারনা বিক্রেতাদের।

কুমিল্লার চকবাজারে আট লাখ টাকা দামের তিনটি গরু এনেছেন বেপারি জাফর আলী। কোনও কোনও ক্রেতা একটি চার লাখ টাকা দাম হেকেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তার গরু কিনলে একটি খাসি ফ্রি দেবেন তিনি।

কুমিল্লার চার শতাধিক স্থায়ী অস্থায়ী বাজারের মধ্যে চকবাজার, বৌয়ারা বাজার, নেউরা বাজার, চৌয়ারা বাজার, দুতিয়াদিঘিরপাড়সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের নজর কাড়তে নানা প্রয়াস চালাচ্ছেন ইজারাদাররা। চলছে শেষ মুহূর্তের সাজগোজ। ক্রেতারা হাটবাজারগুলোতে ঘোরাঘুরি করছেন। দাম যাচাই করছেন।

কুমিল্লার কাপড়িয়াপট্ট্রি নাসিরুল ইসলাম মজুমদার জানান, তিনি বৌয়ারা বাজার, চকবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরেছেন। গরুর দাম সহনশীল পর্যায়ে থাকলেও ক্রেতা নেই। বাজারে গরু অনেক, কিন্তু দিনভর গরু বিক্রি হতে তেমন দেখেননি তিনি। ঈদের মাত্র দুই দিন আগে এ পরিস্থিতি আভাস দেয় মানুষের কাছে টাকা নেই।

কুমিল্লার চাঁনপুর বাজারের গিয়াস উদ্দিন একরাম জানান, চাঁনপুর বাজারে ট্রাকে ট্রাকে প্রচুর গরু এসেছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কয়েকজন ক্রেতা ছাড়া তেমন ক্রেতা ছিল না। তবে বুধবার থেকে কিছু ক্রেতা আসছে। মমিন আহমেদ রনি জানান, চকবাজার, বৌয়ারা বাজার, নেউরা বাজার ঘুরেছেন তিনি। গরু বিক্রেতারা গরুর দাম বেশি চাইছেন। অন্তত গরু প্রতি বিশ হাজার টাকা বেশি চাইছেন। ক্রেতাদেও প্রতারিত হওয়ার মত অবস্থা। এর কারণ ভারতীয় গরু না আসা।

কুমিল্লা শহরের চকবাজারের গরু ব্যবসায়ী জাফর আলী জানান, পাকিস্তানি জাতের তিনটি গরু তিনি বাজারে তুলেছেন। এগুলোর বাচ্চা সংগ্রহ করে চার বছর ধরে যশোরে লালন পালন করেছেন। এখন বাজারে তুলেছেন। দাম চাইছেন আট লাখ টাকা। তবে সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখের মধ্যে বিক্রি করবেন তিনি। কোনও কোনও ক্রেতা চার লাখ হেকেছে। তিনি জানান, তিনটি গরুর মধ্যে দুইটি ১৮ মণ করে এবং একটি ১৭ মণ ওজন হবে। এই গরু কিনলে একটি খাসি ফ্রি দেওয়া হবে। খাসির দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে হবে।

চকবাজার গরু হাটের ইজারাদার হানিফ মাহমুদ জানান, এবার তার বাজারে প্রচুর গরু উঠেছে। আট লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার গরু রয়েছে। তাছাড়া পাবনা, কুষ্টিয়া থেকেও গরু এসেছে। রয়েছে ভারতীয় গরু ও স্থানীয় খামারিদের গরুও। কিন্তু ক্রেতা খুব কম জানিয়ে তিনি বলেন, “সোমবার ও মঙ্গলবার তার বাজারসহ আশপাশের বাজারে গরু শতকরা দুই ভাগও বিক্রি হয় নি অন্য বছরগুলোর তুলনায়। তবে ঈদের আগের দুই দিন বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কুমিল্লার বলারামপুরের কুতুবে রাব্বানী রুবেল শখ করে ২১টি গরু লালনপালন করে এখন বিক্রির চেষ্টা করছেন। ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে গরু রয়েছে তার কাছে। এক লাখ টাকায় ৪-৫ মণ ওজনের গরু পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান রুবেলের ভাই নোমান।

কুমিল্লা শহরের নেউরা বাজারের ইজারাদার সহিদুল্লাহ রতন বলেন, “কুমিল্লার সবচেয়ে বড় বাজার এই নেউরা বাজার। এখান থেকে শহরের মানুষ পছন্দের গরু ক্রয় করেন। গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশি গরু উঠেছে। ” তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে যেন বাজারে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী প্রবেশ করতে না পারে। ”

এদিকে, কোরবানির পশু নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করে পশুর বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।