কুবিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে আবারও বিতর্কে মৃণাল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক ● হাইকোর্টের সামনে থেকে গত ২৬ মে রাতে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন স্থপতি মৃণাল হক। এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত নকশাবহির্ভূতভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল চাপের মুখে অপসারণ করার পর আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন ওই স্থপতি।

গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ দাবি করেন, ম্যুরালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে কুবি প্রশাসনের দাবি, ম্যুরাল কেউ ভাঙেনি, নির্মাণকারী সংস্থা নিজ দায়িত্বে তা সরিয়ে ঢাকায় নিয়ে গেছে।

কুবির রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বহুল আলোচিত স্থপতি মৃণাল হককে ১৫ ফুট উচ্চতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল তৈরির কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু ওই চুক্তি ভঙ্গ করে ১১ ফুট উচ্চতায় ও নিম্নমানের ম্যুরাল তৈরি করায় গত এক মাস ধরে এ নিয়ে কুবির শিক্ষক পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ওই ম্যুরালের নির্মাণ ত্রুটি নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিতর্কের অবসান ঘটাতে মৃণাল হককে ওই ম্যুরাল নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয় কুবি প্রশাসন। ঢাকা থেকে আসা লোকজন ম্যুরালটি ওই স্থান থেকে অপসারণ করে পাশে রাখে। পরে সোমবার রাতে ট্রাকযোগে ঢাকায় নিয়ে যায়। কিন্তু ওই ম্যুরাল অপসারণের পর ম্যুরালের ভাঙা অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ম্যুরালটি দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলেছে বলেও অনেকে দাবি করেন।

চলতি মাসেই ম্যুরালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা ছিল। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান জানান, জাতির জনকের ম্যুরাল নিয়েও যদি কেউ এমন বাণিজ্যিক চিন্তা করে তাহলে তা মেনে নেয়া যায় না। ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্থপতি মৃণাল হক যে ধরনের ম্যুরাল তৈরি করেছিলেন তা সত্যিই বিস্ময়ের বিষয়, কারণ এ ধরনের ম্যুরাল তৈরি করতে ২ লাখ টাকাও লাগার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, শুধু উচ্চতায় নয়, ম্যুরালের অন্যান্য অংশ বিশেষও (বডি) আনুপাতিক হারে অসামঞ্জ্যপূর্ণ ছিল, তাই শিক্ষক পরিষদ ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা অপসারণ করে নিতে ওই স্থপতিকে বাধ্য করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই স্থানে সে কার্যাদেশ মোতাবেক বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যুরাল তৈরি করে স্থাপন করে দেবে বলে কুবি প্রশাসনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কুবির ভিসি ড. প্রফেসর আলী আশ্রাফ বলেন, চুক্তি অনুসারে নির্মাণজনিত কিছু ত্রুটির কারণে আমাদের নির্দেশেই ওই ম্যুরাল অপসারণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, রাতের আঁধারে ম্যুরালটি ভাঙা হয়েছে এমন খবর সঠিক নয়।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।