অসাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে নিন্মমানের সেমাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কুমিল্লার বিসিক শিল্প নগরীসহ জেলার প্রায় সব উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নিন্মমানের লাচ্চা ও দেশী সেমাই। ঈদ উপলক্ষে সেমাইর চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে শত শত অস্থায়ী অবৈধ সেমাই কারখানা।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দেবপুর বাজার এলাকায় এন.কে ফুট প্রোডাক্ট নামে একটি কারখানায় অসাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে নিন্মমানের সেমাই, চানাচুর, বিস্টুট, চমচম, মুরালীসহ বিভিন্ন খাদ্য পণ্য। আর এসব পণ্য বিভিন্ন নামিদামী ব্যান্ডের প্যাকেট ও লগো লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের দেবপুর বাজারের ২শ’গজ দক্ষিনে কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত এন.কে ফুট প্রোডাক্ট। বাহির থেকে আবাসিক বাড়ী মনে হলেও ভিতরে এক বিশাল কারখানা। বুধবার বিকেলে ওই কারখানায় গিয়ে দেখা যায় অসাস্থ্যকর এই পরিবেশ। কারখানার প্রবেশ পথেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বড়-বড় তেলের ড্রাম, ভিতরে একটি রুমে ১০-১৫ জনের একটি মহিলার দল ফ্লোলে বসে চানাচুর প্যাকেট করার কাজে ব্যস্থ।

ভিতরে চলছে সেমাই তৈরীর কাজ, খালি গায়ে ৪/৫ জনের একদল শ্রমিক অপরিচ্ছন্ন ভাবে ময়দা পিষিয়ে মন্ড তৈরী করছে। এর মধ্যে ৮/৯ বছরের শিশুকেও কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এক পাশে মাটিতেই রাখা হচ্ছে ভাঁজা সেমাই, অন্যপাশে দু’টি চুলায় ভাঁজা হচ্ছে সেমাই। খালি গায়ে ঘামে ভেঁজা শরীরের কাঠের চুলায় গাদযুক্ত তেল দিয়ে ভাঁজা হচ্ছে সেমাই।

আশে পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, টয়লেটের পাশে বড় দুটি কড়াইয়ের মধ্যে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে ডাল। এ ডাল দিয়ে তৈরী হবে চানাচুর, বিস্কুট, মুরালী, চমচমসহ বিভিন্ন খাদ্য। পাশের একটি রুমে প্যাকেটিং হচ্ছে সেমাই। খালি গায়ে লুঙ্গী পরে ফ্লোরে বসে প্যাকেট করা হচ্ছে সেমাই। বিভিন্ন নামিদামী ব্যান্ডের প্যাকেট রাখা হয়েছে পাশে। একই সেমাই বিভিন্ন প্যাকেটে প্যাক করা হচ্ছে। আর এই সেমাইগুলি দেয়া হচ্ছে কুমিল্লারবিভিন্ন উপজেলায়। আর এই অসাস্থ্যকর খাদ্য খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে অনেকেই।

কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিককে অপরিচ্ছন্ন ও অসাস্থ্যকর পরিবেশে এসব তৈরীর বিষয়ে জানতে চাইলে সে ম্যানেজারের সাথে কথা বলার জন্য বলে। পরে অফিস রুমে গিয়ে ম্যানেজারের কোথায় জানতে চাইলে একজন জানা ম্যানেজার বাহিরে আছে।

কারখানার ট্রেড লাইসেন্স, বি.এস.টি আই এর অনুমতি আছে কিনা যানতে চাইলে বলেন সব ম্যানেজার প্রমোদ নাহা জানেন। পরে মোবাইল ফোনে ম্যানেজার প্রমোদ নাহারের সাথে যোগাযোগ করেলে তিনি জানান, মালিকের সাথে কথা বলে কাগজপত্র নিয়ে পরে যোগাযোগ করা হবে।

এবিষয়ে কারখানার মালিক খোরশেদ আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বল্লে তিনি জানান, গত ১ বছর পূর্বে স্থানীয় অদুধ মিয়ার নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়ায় নিয়ে এ কারখানা চালু করা হয়। অপরিচ্ছন্ন ও অসাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আধ ঘন্টা পরে আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে।

error: দুঃখিত কুমিল্লার বার্তার কোন কনটেন্ট কপি করা যায় না।