মা ও নবজাতকের ঘাতক ডাক্তারকে খুঁজছে পুলিশ

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারনে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের কর্তব্যরত অভিযুক্ত ডাক্তার এম শরীফ আহাম্মদকে পুলিশ খুঁজছে। নিহত প্রসুতির মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ওই ডাক্তার ও হাসপাতালের মালিক মারুফ আহাম্মদসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

উল্লেখ্য রয়েল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার এম শরীফ আহাম্মদ গত বুধবার ভোর ৬টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের ব্যবসায়ী উজ্জলের স্ত্রী সুনিয়া আক্তার (২০) এর প্রসবকালীন ব্যাথা উঠলে তার পেটে অপারেশন করে বাচ্চা বের করে আনেন। ডাক্তারের ভুল সিজারের কারনে নবজাতক কন্যা শিশুর মৃত্যুসহ সুনিয়া আক্তার মৃত্যুবরণ করে।

এরপর উত্তেজিত জনতা হাসপাতালটি ভাংচুর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে ওই ডাক্তার, হাসপাতালের মালিক, কর্মচারীসহ সকলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই দিনই কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মজিবুর রহমান চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্ত ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে লাইসেন্স, অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর এলাকায় দুইটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সম্রাট খীসা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামরুল ইসলাম খান ওই হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

রয়েল হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা, লাইসেন্স ও অভিজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় এবং হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী পলাতক থাকার কারনে ভ্রাম্যমান আদালত হাসপাতালটিতে সিলগালা মেরে বন্ধ করে দেন।

ভ্রাম্যমান আদালত একই এলাকার মাতৃসেবা জেনারেল হসপিটালের লাইসেন্স, অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সে হাসপাতালটিও সিলগালা মেরে বন্ধ করে দেন।

এসময় হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার কেরানীগঞ্জ জেলার মালিভিটা গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫) এর আলট্রাসোনোগ্রাম করার মত প্রয়োজনীয় সনদ না থাকার অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই হাসপাতালের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের মৃত এলাহী বক্সের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৪৩)কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন।

ভ্রাম্যমান আদালতটি চান্দলা বাজারের চান্দলা মেডিকেল সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী ডাঃ সৌরভ সাহাকে মেডিকেল সেন্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা, একই এলাকার মীম মেডিকেল হলের সত্ত্বাধিকারী মোঃ এমএ আজিজ ডাক্তারি সনদ না থাকা সত্ত্বেও তার নামের পূর্বে ডাক্তার ব্যবহার করায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এবং উপজেলার বড়ধুশিয়া বাজারের সাব্বির ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে সিএম লাইসেন্স না থাকায় বেকারীর মালিক বাবুল করিমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করেন।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কালে বিএসটিআই কুমিল্লা ফিল্ড অফিসার (সিএম) রিয়াজ হোসেন মোল্লা, ব্রাহ্মণপাড়া সেনেটারী ইন্সপেক্টর পারভীন সুলতানা, এসআই বিকাশ চন্দ্র মন্ডলসহ পুলিশের একটি দল অংশগ্রহন করেন।