ভুল সিজারে মা ও নবজাতকের মৃত্যু; থামছে না শোকের মাতম

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● আমার পরী আর আসবে নারে, আমার পরীরে তারা মেরে ফেললরে, আমার সোনা পরী কইরে, তোমারা আমার পরীরে আইনাদেও রে, আমি আমার পরীরে ছাড়া কেমনে থাকবরে। প্রসতি সোনিয়ার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই এই বলে বিলাপ ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে নিহত সোনিয়ার মা মনোয়ারা বেগম। এছাড়াও সোনিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকা জুরে বৈইছে শোকের মাতম।

সরজমিনে ঘুরে নিহত সোনিয়ার স্বজন ও এলাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর ভোর সকালে প্রসব ব্যাথা নিয়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আঃ হালিম পুলিশের মেয়ে ও একই গ্রামের ব্যবসায়ী মোঃ উজ্জল মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (১৯) কে উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে আসে।

হসপিটালের কর্তব্যরত ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ প্রাথমিক ভাবে সোনিয়া আক্তারকে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও একটি রক্ত পরীক্ষা দেয়। তার পর তিনি রোগির স্বজনদের জানান, মা ও গর্ভের সন্তান উভয়ই ভাল আছে। তবে স্বাভাবিক ভাবে বচ্চার প্রশব হবে না।

অপরেশন এর মাধ্যমে বাচ্চা প্রশব করাতে হবে। এ কথা বলেই কর্তব্যরত ডাক্তার এম শরীফ ও তার সহযোগীরা সোনিয়াকে অপারেশন থিয়োটারে নিয়ে যায়। প্রায় ঘন্টাখানেক পর অপারেশন থিয়োটার থেকে ডাক্তার এসে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আঃ মান্নানকে একটি নবজাতাক দিয়ে বলে বচ্চাটি অসুস্থ্য কান্না করে না।

আপনারা জরুরি ভিত্তিতে নবজাতক’কে দেবিদ্বারে একটি শিশু ডাক্তার দেখান। তখন তারা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নবজাতক’কে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে।

পরে প্রায় ২ ঘন্টা পর রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ডাক্তার শরীফ নিজেই একটি এ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে আমাদের ফোনের মাধ্যমে জানান, আমরা সোনিয়াকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপালে যাচ্ছি। তখন সোনিয়ার ভগ্নিপতি আঃ মান্নান দেবিদ্বার থেকে ঐ এ্যাম্বুলেন্সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপালে যায়, পরে মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত ডাক্তার সোনিয়াকে মৃত ঘোষনা করে।

এ সময় ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সোনিয়া ও তার নবজাতকের মৃত্যুর খবর শুনে এলাকার উৎসুক জনতা রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ঘেরাও করে এবং হসপিটালের কিছু অংশ ভাংচুর করে।

এসময় হসপিটাল এবং ভর্তিকৃত রোগীদের ফেলে ডাক্তার, নার্স ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। এব্যাপারে হসপিটালের কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে নিহত সোনিয়ার ভাই রাজন এই প্রতিনিধিকে জানান, রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ডাক্তার ভুল অপারেশন করে আমার সুস্থ্য বোন ও তার গর্ভের নবজাতক’কে মেরে ফেলেছে। আমরা তার সুষ্ঠ বিচার চাই।

এ ব্যাপারে সোনিয়ার মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার এম শরীফ (৩৫) ও মালিক মোঃ মারুফ (৪৫) কে এজাহার নামীয় আসামী করে এবং হসপিটালের কর্মরত আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

২৩ নভেম্বর বিকেলে নিহত সোনিয়া আক্তার ও তার নবজাতক কন্যাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে বাড়ীতে আনলে এলাকাবাসী সোনিয়াদের বাড়ীতে বিড় জমায়। একই দিন বাদ মাগরিব সোনিয়ার জানাযা নামাজ শেষে কান্দুঘর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে প্রসতি মা ও মেয়ের দাফন সম্পন হয়।