২টি হাসপাতাল সিলগালা; ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● লাইসেন্স, অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর এলাকায় দুইটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাধবপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকার রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে কর্তব্যরত ডাক্তার এম শরীফ আহাম্মদের ভূল চিকিৎসার কারনে গত বুধবার এক প্রসুতি মা ও এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ক্ষোভে ও রাগে হসপিটালের একাংশ ভাংচুর করে। বৃহস্পতিবার নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার এম শরীফ আহাম্মদ ও হাসপাতালের মালিক মারুফ আহাম্মদসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মজিবুর রহমান গত ২২ নভেম্বর বুধবার ওই হসপিটালের প্রসুতি এবং নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তারসহ অন্যান্যদের অবহেলা রয়েছে কিনা বিষয়টি তদন্তের জন্যে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সম্রাট খীসা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামরুল ইসলাম খান ওই হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

রয়েল হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা, লাইসেন্স ও অভিজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় এবং হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী পলাতক থাকার কারনে ভ্রাম্যমান আদালত হাসপাতালটিতে সিলগালা মেরে বন্ধ করে দেন।

ভ্রাম্যমান আদালত একই এলাকার মাতৃসেবা জেনারেল হসপিটালের লাইসেন্স, অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সে হাসপাতালটিও সিলগালা মেরে বন্ধ করে দেন।

এসময় হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার কেরানীগঞ্জ জেলার মালিভিটা গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫) এর আলট্রাসোনোগ্রাম করার মত প্রয়োজনীয় সনদ না থাকার অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই হাসপাতালের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের মৃত এলাহী বক্সের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৪৩)কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন।

ভ্রাম্যমান আদালতটি চান্দলা বাজারের চান্দলা মেডিকেল সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী ডাঃ সৌরভ সাহাকে মেডিকেল সেন্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা, একই এলাকার মীম মেডিকেল হলের সত্ত্বাধিকারী মোঃ এমএ আজিজ ডাক্তারি সনদ না থাকা সত্ত্বেও তার নামের পূর্বে ডাক্তার ব্যবহার করায় তাকে ৫ হাজার টাকা এবং উপজেলার বড়ধুশিয়া বাজারের সাব্বির ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে সিএম লাইসেন্স না থাকায় বেকারীর মালিক বাবুল করিমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করেন।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কালে বিএসটিআই কুমিল্লা ফিল্ড অফিসার (সিএম) রিয়াজ হোসেন মোল্লা, ব্রাহ্মণপাড়া সেনেটারী ইন্সপেক্টর পারভীন সুলতানা, এসআই বিকাশ চন্দ্র মন্ডলসহ পুলিশের একটি দল অংশগ্রহন করেন।