স্ত্রী’র লাশ দেখতে এসে স্বামী’র মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্ত্রী’র লাশ দেখতে এসে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম সৃষ্টি হয়েছে। ওই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। সোমবার সন্ধা সাড়ে ৫টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৪টার মধ্যে দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের বামনিসার (আজিজনগর) গ্রামের প্রয়াত আ’লীগ নেতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এম,এন,এ আব্দুল আজিজ খানের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ওই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বামনিসাইর (আজিজনগর) গ্রামের আজিজ খানের বাড়ির মোঃ আনোয়ার হোসেন খান’র স্ত্রী রিফা আক্তার খানম(২৪) বাড়ির পাশের পুকুর ঘাটে বসে মোবাইল ফোনে ঢাকার রামপুরায় পোশাক কারখানায় কর্মরত স্বামী আনোয়ার’র সাথে ইমুতে কথা বলছিলেন, হঠাৎ তার হাত থেকে মোবাইল ফোন সেটটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। রিফা আক্তার ওই মোবাইল সেটটি পানি থেকে তুলতে যেয়ে আর উঠে আসতে পারেনি। পরিবারের লোক জন রাত হয়ে যাওয়ার পরও রিফা ঘরে ফিরে না আসায় অনেক খোজাখুজির পর পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত: ঘোষণা করেন। রিফা আক্তার সাতার জানতনা এবং সে মৃগীরোগী ছিল। স্বামী আনোয়ার হোসেন(২৮) ওই সংবাদ পেয়ে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে ভোর রাতে কংশনগর হয়ে পায়ে হেটে ‘ফুলতলী- বামনিসার ব্রীজ সংলগ্নে অচেতন হয়ে পড়ে ছিল। ওই সময় ট্রাক্টরের মাটি কাটা শ্রমিকরা যাওয়ার পথে আনোয়ারকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে তার পরিবারের লোকজন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎস আনোয়ার হোসেনকেও মৃত: ঘোষনা করেন।

সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) আসাদুর ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে সোমবার রাতে মৃত: রিফা আক্তার’র লাশ এবং মঙ্গলবার সকালে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন’র লাশ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেছেন।

স্থানীয়রা কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে জানান, আনোয়ার হোসেন ও রীফা আক্তার সম্পর্কে চাচাতো ও জেঠাতো ভাই বোন। তাদের প্রেমের বিয়ে হওয়ার ওদের আন্তরিকতা ছিল বেশী। যার কারনে রিফার মৃত্যুসংবাদটি তার স্বামী সহ্যকরতে পারেনি। বাড়ি আসার পথে স্ত্রী হারানো শোকে তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

তবে প্রয়াত আলীগ নেতা আজিজ খানের ভাইস্তা ও প্রবীন রাজনীতিক মৃত: লতিফ খানের পুত্র নূরুল আমিন সেলিম খান জানান, ঘটনাটি অসচেতনতার কারনেই ঘটেছে। রিফা তার স্বামীর সাথে কথা বলার সময় ফোনসেটটি বন্ধ হওয়ার পর বাড়ির লোকদের ফোন করে জানতে পারত, তাহলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। যার কারনে তার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘসময় ধরে সন্ধানের এক পর্যায়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করে। অপর দিকে তার স্বামী রাতে আসায় বিলম্বের কারনে পরিবারের পক্ষ থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানা দরকার ছিল। তাছাড়া সে জাফরগঞ্জ স্ট্যাশন দিয়ে না এসে কংশনগর দিয়ে চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যখ্যাত ঝুকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে একাই পায়ে হেটে আসছি। যে জায়গায় তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই জায়গাটিতে আরো একাধিক দূর্ঘটনা ঘটেছিল। আনোয়ার ষ্ট্রোক করে কিংবা ছিনতাইকারীদের হাতে তার মৃত্যুর আশংকাও করা হয়। পুলিশ আনোয়ার হোসেন হৃদক্রিয়াযন্ত্র বন্ধ হয়ে এবং রিফা আক্তার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারনা পোষন করলেও বিতর্ক এড়াতে মৃত্যুর প্রকৃত কারন নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থ করেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য প্রায় এক বছর পূর্বে বামনিসাইর গ্রামের প্রয়াত আব্দুল আজিজ খানের বাড়ির মোখলেসুর রহমান খান’র পুত্র আনোয়ার হোসেন খান’র সাথে মোঃ হাবিবুর রহমান খান’র কণ্যা রিফা আক্তার খানম’র বিবাহ হয়। তাদের কোন সন্তানও ছিলনা। সম্পর্কে ওরা চাচাতো ভাই বোন ছিল। প্রেমের ঘটনায় ওই বিবাহ বন্ধন হয়েছিল বলে জানা যায়।

আনোয়ারের বড় বোন শিউলী বেগম বলেন, তাঁর ভাই ঢাকার রামপুরার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্ত্রী’র মৃত্যু সংবাদে দেখতে আসার পথে তারও মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) সাইদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক ধারনায় স্বামী আনোয়ার হোসেন খান হৃদক্রিয়া যন্ত্র বন্ধ হয়ে এবং মৃগীরোগে আক্রান্ত স্ত্রী রিফা আক্তার খানম পানিতে ডুবে মৃত্যুর আশংকা করা হলেও স্থানীয়দের মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার কারনে মৃত্যুর প্রকৃত কারন নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে উভয় ঘটনায় অর্থাৎ রিফা আক্তার খানম(২৪) অপমৃত্যু মামলা নং-৭৪/১৭, তাং-২০/১১/১৭ইং এবং আনোয়ার হোসেন খান(২৮), অপমৃত্যু মামলা নং- ৭৫/১৭, তারিখ- ২১/১১/১৭ইং।