কুমিল্লায় অপহরণের সময় পুলিশ সহ আটক ২

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লায় সাজিদ মিয়া নামের এক কিশোরকে অপহরণ করার সময় রেজাউল করিম নামের এক পুলিশ কনস্টেবল ও চালক মামুন মিয়া জনতার হাতে আটক হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই ব্রাহ্মণপাড়া থানায় অপহরণের মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার সকালে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল রেজাউল করিম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গুরিয়ারুপ গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

তিনি ভোলা জেলার সদর থানার ইলিশা তদন্ত কেন্দ্রে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিনের ছুটিতে আসলেও ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মামুন মিয়া জেলার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দক্ষিণ তেতাভূমি গ্রামে মৃত সানু মিয়ার ছেলে সাজিদ মিয়া (১৯) রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে হরিমঙ্গল বাজারে রওয়ানা করেন। গ্রামের দক্ষিণ পাড়া পৌঁছা মাত্র সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা থেকে দু’জন তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। সে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় গাড়িতে তুলেই রেজাউল করিম নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয় ও অপর ব্যক্তিসহ দু’জনে তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নতুবা তাকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়ার হুমকি দেয়।

গাড়িটি ব্রাহ্মণপাড়া নাইঘর গ্রামে পৌঁছলে সাজিদকে সিএনজি থেকে ফেলে দেয়। এ সময় সাজিদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি আটক করে। রেজাউল করিম ও চালক মামুন মিয়াকে আটক করলেও অপর ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সাজিদ মিয়া বাদী হয়ে রাতেই রেজাউল করিম, চালক মামুন মিয়া ও অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করে।

সাজিদ মিয়া কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে বলেন, সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা থেকে দু’জন তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। তুলেই রেজাউল করিম নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয় ও অপর এক ব্যক্তিসহ দু’জনে তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নতুবা তাকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়ার হুমকি দেয়।

সাজিদ বলেন, অতিরিক্ত চিৎকার করলে তাকে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেয় তারা।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে বলেন, রেজাউল করিম ভোলা জেলার সদর থানার ইলিশা তদন্ত কেন্দ্রে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিনের ছুটিতে আসলেও ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করে এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, রেজাউল করিম ও তার এক আত্মীয় মিলে সাজিদকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন। স্থানীয় লোকজন দু’জনকে আটক করলেও অন্যজন পালিয়ে যায়।

ভোলা জেলার সদর থানার ইলিশা তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মোক্তার হোসেন কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে বলেন, রেজাউল করিম ভোলা জেলার সদর থানার ইলিশা তদন্ত কেন্দ্রে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিনের ছুটিতে আসলেও ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করে নাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।