প্রবাসীকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লায় গ্রেফতার ২

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রবাসী খোরশেদ আলম হত্যার সাথে জড়িত মামলার ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে কুমিল্লা মহানগরীর টমছম ব্রীজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। রোববার বিকেলে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ূব রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বহুল আলোচিত নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট ইউনিয়নের ছুপুয়া গ্রামের ছেরাজুল হকের ছেলে প্রবাসী খোরশেদ আলম (৫৮) হত্যার ঘটনার সাথে ৪ ব্যক্তি জড়িত ছিল। এ ঘটনায় পুলিশ মোট ৩ আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি জানান, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) খাদেমুল বাহার সঙ্গীয় ফোর্স ও জেলার সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রীজ এলাকা থেকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় উপজেলার ছুপুয়া গ্রামের মো. মাহবুবুল হকের ছেলে মো. ফারুক (২০) ও অলিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. শাহীনকে (১৯) গ্রেফতার করে।

পরে তাদেরকে রোববার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আফসারের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বর্ণনা দেয়।

এসময় তারা আদালতকে জানায়, ফারুক পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন শাহীন। নিহত খোরশেদের স্ত্রী সাজেদা বেগমের সাথে ফারুকের সখ্যতা ছিল।

ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে সাজেদা ফারুককে জানায় যে তার স্বামী খোরশেদ ৩ শতক জমি বিক্রি করে টাকা খরচ করে পেলেছে এবং আবারো সড়কের লাগোয়া আরো ১ শতক জমি বিক্রি করার চেষ্ঠা করছে।

এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অশান্তি চলছে। একপর্যায়ে গত ১ নভেম্বর তাঁর স্বামী খোরশেদ তাঁকে মারধর করে। অতএব তাঁকে মেরে না ফেললে আরো অশান্তি বাড়বে, তাই তোমার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ নিয়ে তাদের মাঝে ১০ হাজার টাকায় খোরশেদকে খুনের চুক্তি হয়।

পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর রাতে খোরশেদ ও তার ছোট ছেলে ইস্রাফিল ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী সাজেদার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তিন ঘাতক ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ফারুক ও শাহীন মিলে খোরশেদের দুই হাত এবং দুই পা চেপে ধরে রাখে। এসময় তাঁর স্ত্রী সাজেদাসহ অপর ঘাতক (তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে পুলিশ তাঁর নাম প্রকাশ করেনি) খোরশেদের মুখে বালিশ ও কম্বল চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

হত্যার পর বাড়ীর প্রাচীরের নিচ দিয়ে মাটি খুঁড়ে (প্রায় পরিত্যক্ত) আমেরিকা প্রবাসী রকিবুলের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মাটি চাপা দেয়।

ওই ঘটনার ৫ দিন পর নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ মাটি চাপা থেকে উদ্ধার করে। ওইদিনই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সাজেদা বেগম ওরফে বাদলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। সাজেদা বেগম স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে ৮ নভেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন বলে জানান ওসি মোহাম্মদ আইয়ূব। তাঁর স্বীকারোক্তি মোতাবেক খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘাতক ফারুক ও শাহীনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামের ছেরাজুল হকের ছেলে প্রবাসী খোরশেদ আলমকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয় স্ত্রী ও তাঁর ৩ সহযোগী।