প্রবাসীর স্ত্রীকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ায় আত্মহত্যা; শাস্তি দাবি

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● মেয়েকে হারিয়ে তার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী নিহত রিমার পিতা জয়নাল আবেদীন। জয়নাল আবেদীন বলেন, মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে অপমানে ক্ষোভে তার মেয়ে আত্মহত্যা করে। শনিবার বিষ পান করে আত্মহত্যা করে ওই প্রবাসীর স্ত্রী ১ সন্তানের জননী। ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজদের তথ্যমতে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের আটিপাড়া এলাকার মালদ্বীপ প্রবাসী রবিউল ইসলাম এর স্ত্রী ও বুড়িচং উপজেলার বারেশ্বর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মোসাঃ রিমা আক্তার (২৪) শনিবার সকালে স্বামীর বাড়ীতে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে।

নিহত রিমার ভাই মোঃ মনির হোসেন ও তার বোন রিনা আক্তার প্রতিনিধিকে জানান, গত ৬ বছর পূর্বে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের আটিপাড়া এলাকার মৃত ফয়েজ আলীর ছেলে মালদ্বীপ প্রবাসী রবিউল ইমলাম এর সাথে শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে রায়হান (৪) নামের এক ছেলে সন্তানের জনক জননী হয়।

বিয়ের কিছুদিন পর রিমার স্বামী রবিউল ইসলাম প্রবাসে চলে গেলে পাশের বাড়ীর টং দোকানদার আব্দুস সালামের ছেলে মোঃ সোহেল প্রায় সময় রিমা আক্তার কে মোবাইল ফোনে এবং প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতো। এনিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে একধিকবার তাদের নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। ঘটনার ২ দিন পূর্বে মোঃ সোহেল, রিমাকে দুচরিত্রা ও সামাজিক ভাবে দোষি সাব্যস্থ করা জন্য রাতের অন্ধকারে তার বসত ঢুকে বিভিন্ন মানুষকে মোবাইল ফোনে জনায় “আমি রিমার ঘরে আছি, আপনারা দেখে যান”।

পরদিন এনিয়ে আবারো এলাকায় সালিশ বৈঠক হয়। ঘটনার দিন সকালে রিমা লজ্জায় রাগে, ক্ষোভে বিষ পান করে ছটফট করতে থাকে।

বিষয়টি বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে রিমাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা অবনতি দেখে রিমাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার পর রিমা পথিমধ্যে মারা যায়।

খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এস আই হুমায়ুন কবির, এস আই মনির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটস্থলে গিয়ে রিমার লাশের শোরতহার রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এই সংবাদ লিখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।