কুমিল্লায় কিশোরীকে গণধর্ষণ; আটক ১

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী ৪ যুবকের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফজলে রাব্বি নামে একজনকে আটক ও ভিকটিমকে উদ্ধার করে মেডিকেল পরিক্ষা করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের খান বাড়ীতে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে ভিকটিমের পরিবারের সাথে আতাত করে স্থানীয় একটি টাউটবাটপার দালালচক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রকাশ্যে শালিস দরবারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সরজমিনে গিয়ে উভয় পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের খান বাড়ির আলোচিত জেসমিন বেগমের সাথে একই গ্রামের বর্তমান মেম্বারসহ প্রতিবেশীদের মামলা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। জেসমিন বেগম বাদী হয়ে চাঁদাবাজিসহ প্রায় ডজন খানেক মামলাও করেছে এসব গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। আর এসব মামলা থেকে বর্তমান ওয়ার্ড মেম্বার পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

সবশেষ গত ১২ অক্টোবর জেসমিনের মেয়ে বাদী হয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে খান বাড়ীর অলি আহমেদের ছেলে ফজলে রাব্বি (২২), রেজাউল করিমের ছেলে ও স্থানীয় একটি স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র সুজন (১২), সেলিম মোল্লার ছেলে রাসেল মিয়া (১৪) ও ইব্রাহিমের ছেলে জাহিদকে (১৭) আসামী করে তিতাস থানায় মামলা নং ১২ দায়ের করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফজলে রাব্বি নামের এক যুবককে সাথে সাথেই আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন এবং ভিকটিমের মেডিকেল চেক-আপ করা হয়।

তবে যে স্থানে কিশোরীটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়; সেখানকার কোন লোক এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের জানায়। বিষয়টি সাজানো ও পরিকল্পিত বলেই মন্তব্য করেছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সুশিল সমাজ। তবে পুলিশ বলছে ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে তবে মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া কিছু বলা যাবে না।

এদিকে এই ঘটনায় মামলা রুজুর আগে এবং পরে একাধিকবার প্রকাশ্যে চার গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতে ঘটনা রফাদফার চেষ্ঠাও করা হয়েছে। সবশেষ আড়াই লাখ টাকায় শালিসে রফার চেষ্ঠা করে দালালচক্র। তবে চার যুবকের পরিবার রাজি না হওয়ায় ঘটনা রফা হয়নি বলেও জানা যায়।

ভিকটিমের সাথে কথা হলে সে সাংবাদিকদের জানায় তাকে মুখে কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পরিত্যক্ত একটি স্কুল ভবনের ভিতর ৪ জন মিলে ধর্ষণ করে।

ঘটনার ১৫ দিন পর কেনো মামলা করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ভিকটিমের মা জেসমিন বেগম বলেন, স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিলো, ওরা না মানায়, বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। আমি অসহায় বিধায় সবাই আমাকে গ্রাম ছাড়া করার জন্য নানাহ হুমকি-ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি প্রতি মুহুর্তে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

ফজলে রাব্বির পিতা অলি আহমেদ সাংবাদিকদের জানায়, আমার ছেলেকেসহ অন্য সবাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছে। মেয়েটির অন্য কোথাও অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই জানায়, মামলা করা জেসমিনের পেশা হয়ে গেছে। খান বাড়ীর বর্তমান ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধেসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে সে ডজন খানেক মামলা করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আল আমিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানায়, ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়েছি এবং জড়িতের অভিযোগে একজনকে আটক করেছি অন্যরা পলাতক রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভিকটিমের মেডিকেল পরিক্ষা করা হয়েছে; রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছে না।