কুমিল্লায় হাইকোর্টের নির্দেশে চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহণ স্থগিত

আবদুর রহমান ● অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফ্ফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যানের শপথ গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার কুমিল্লার উপ-পরিচালক সংশ্লিষ্টদের এক চিঠিতে জানান বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ওই ইউনিয়নের চেয়াম্যানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার বিকেলে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল হক বলেন, মুদাফ্ফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থী শাহ আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত। আজ সকালে আমরা সেই আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। যার কারনে উচ্চ আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মুদাফ্ফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যানের শপথ গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৭ই জানুয়ারী এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.কে.এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মুদাফ্ফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত ও গেজেট প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। হাইকোর্টের দেওয়া ওই আদেশে নির্বাচনটি তদন্ত করে নতুন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য বলা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই ইউপি নির্বাচনটি কেন বেআইনি ও ব্যর্থ নির্বাচন নয়? এবং কেন পুণরায় ভোট গণনা করে নতুন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা প্রদান করা হবে না? তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করে আদালত। আদেশের ৪ সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো.মাহবুব শফিক ও ব্যারিস্টার মো.জাসিদুল ইসলাম জনি।

ওই রিট আবেদনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনকে বিবাদী করা হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর লাকসাম উপজেলার মুদাফ্ফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন মো.শাহীদুল ইসলাম শাহীন এবং বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন মো.শাহ আলম। ওইদিন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ভোট কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে না আসতে দেওয়াসহ নানা অভিযোগে সকাল ১১টার দিকে ভোট বর্জন করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান শাহ আলম। তবে ওইদিন রাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। সর্বশেষ ওই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে গত ১৪ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে এক রিট আবেদন করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান শাহ আলম। এরপর শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারী আদালত ওই আদেশ প্রদান করেন। আর আদেশের কপি প্রকাশিত হয় গত ২৪ জানুয়ারী।

এদিকে, আমাদের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই আদেশ দিলে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীদুল ইসলাম শাহীন গত ২৯ জানুয়ারী রিট বাতিলের জন্য আবেদন করেন চেম্বার জজ আদালতে। চেম্বার জজ আদালত আপিল বিভাগের রায় বহাল রেখে শাহীদুল ইসলাম শাহীনের সেই আবেদন সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চে প্রেরণ করেন শুনানির জন্য।

গত ১লা ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ শুনানি শেষে শাহ আলমের রিটের রায় বহাল রেখে শাহীনের সেই আবেদন খারিজ করে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে শাহ আলমের করা রিটটি নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগকে নির্দেশনা দেয়।

রিটকারী শাহ আলমের পক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার মো.জাসিদুল ইসলাম জনি বলেন, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আদেশ অমান্য করে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চিঠি ইস্যু করেন স্থানীয় সরকার কুমিল্লার উপ-পরিচালক। এটা অবশ্যই উচ্চ আদালতের অবমাননা। আমরা উচ্চ আদালতের আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে পাঠিয়েছি। তা সত্ত্বেও তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।