নানা কৌশলে প্রচারনায় কুমিল্লার মন্ত্রী-এমপিরা

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ● ২০১৮ সালের শেষের দিকে হতে পারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হতে পারে আগাম নির্বাচনও । সেই ক্ষেত্রে সময়ও বেশি নেই। তাই এলাকামুখী হচ্ছেন কুমিল্লার আ’লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী ও এমপিরা। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে, ভোট ব্যাংক বৃদ্ধি করতে এবং জনগণের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনতে এলাকায় সময় দিচ্ছেন মন্ত্রী-এমপিরা। এক্ষেত্রে ভোটারদের মন জয় করার জন্য প্রচারনায় বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করছেন তারা।

যারা এলাকায় বিগত দিনগুলোতে সময় কম দিয়েছেন, তারা উঠে পড়ে লেগেছেন হারানো অবস্থান ফিরিয়ে আনার জন্য।

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-নাঙ্গলকোট) আসনের সাংসদ পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়েও কাজ করছেন তিনি। তাই এলাকায় সময় তেমন দিতে পারেননি।

সম্প্রতি ১/২ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে ১/২ দিন এলাকায় সময় দিচ্ছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন এলাকায়। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দেখা করছেন ভোটারদের সাথে। কখনো পায়ে হেটে, কখনো মোটরসাইকেলে চড়ে।

কখনো রাস্তার পাশে দাড়িয়ে ধান মাড়াই করছেন, কখনো শিশুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কখনো বিলে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভোটারদের ঘরের চৌকাঠে বসে কথা বলছেন।

সব মিলিয়ে জনগণের সাথে দূরত্ব কমিয়ে জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

এ আসনে তার সাথে মনোনয়ন লড়াইয়ে আ’লীগের কোন প্রার্থী না থাকলেও এখানে বিএনপির রয়েছে শক্ত ঘাটি।

এ বিষয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) জানান, জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস, রাজনীতি করি জনগনের জন্য, মানুষের সেবা করার জন্য। তাই তাদের কাছে গিয়ে খোঁজ খবর না নিলে হবে কিভাবে?

লোটাস কামাল বলেন, তাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে, সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, তাদের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। তাদের কষ্টের টাকায় দেশ চলে, সরকার চলে, দেশের উন্নয়ন সামনের দিকে অগ্রসর হয় । তাই তাদের খোঁজ খবর রেখে তাদের কথা শোনা আর সেবা করাই রাজনীতির প্রধান দায়িত্ব” মনে করি।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সাংসদ রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। তিনি গত ৯ বছরে প্রতি সপ্তাহেই এলাকায় আসেন। অন্তত একদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩/৪টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

এলাকার উন্নয়নমূলক কাজগুলো তদারকি করেছেন। বলা যায়, তৃণমূলের সাথে তার আত্মার সর্ম্পক। তিনি এখনও এলাকায় নিয়মিত আসছেন।

এ আসনে তার সাথে মনোনয়ন লড়াইয়ে আ’লীগের কোন প্রার্থী না থাকলেও এখানে জামায়াতের রয়েছে শক্ত ঘাটি। যদিও গত কয়েক বছরে গ্রেফতার ও মামলার কারণে জামায়াতের সাংগাঠনিক কাঠামো অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে।

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি জানান, কর্মীরাই আওয়ামীলীগের প্রাণ তথা চালিকা শক্তি । আমি তৃণমূলের রাজনীতি করি। জনগণই আমার শক্তি। আমি তাদেরকে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাবো। তাই আমি সব সময় মানুষের সাথেই আছি।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) এ আসনের সাংসদ হলেন জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি।

এ আসনে আলী আশরাফের পাশাপাশি আ’লীগের মনোনয়ন লড়াইয়ে আছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

তাই সম্প্রতি মাঠে সক্রিয় এমপি আশরাফ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। রিকসাতে করে, মোটরসাইকেলে চড়ে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন।

মো. আলী আশরাফ এমপি জানান, ‘চান্দিনায় আওয়ামীলীগকে নিয়ে এখন গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিককাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আওয়ামীলীগেই আছি।

তিনি বলেন, কখনও আপনাদের ছেড়ে যাইনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চান্দিনাবাসীর সেবা করে যাব। আমি মাঠে আছি। চান্দিনাবাসি আমাকে চায়।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি রাজী ফখরুল মুন্সি। এক সময় অভিযোগ ছিল তরুণ বয়সের এমপি রাজী ফখরুল তরুণদের নিয়ে রাজনীতি করে।

উপজেলার আ’লীগের বর্ষীয়াণ নেতৃবৃন্দের সাথে তেমন সর্ম্পক রাখেন না। কিন্তু এখন প্রায় দলীয় অনুষ্ঠানে এমপি রাজী ফখরুলের সাথে প্রবীণ রাজনীতিবিদদের দেখা যাচ্ছে।

এমপি রাজী ফখরুল সমর্থিতরা বলছেন, তিনি সব বয়সের রাজনীতিবিদদের সাথে নিয়ে দেবিদ্বারের উন্নয়ন করছেন। এ আসনে মনোনয়ন লড়াইয়ে রাজী ফখরুলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি অধ্যক্ষ হুমায়ন মাহমুদের সাথে।

এমপি রাজী ফখরুল জানান, বাংলাদেশের মধ্যে দেবিদ্বার উপজেলা হচ্ছে একটি রুল মডেল, এটি আমার একটি স্বপ্ন, এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা চাই। সকলের সহযোগিতায় দেবিদ্বারকে একটি সোনার দেবিদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি তাজুল ইসলাম । এ আসনে মনোনয়ন লড়াইয়ে অনেকের নাম শোনা গেলেও মাঠে প্রকাশ্যে কেউ নেই।

তারপরেও লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সংসদীয় আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হওয়ায় মাঠে বেশ তৎপর হয়ে নেমেছেন এমপি তাজুল ইসলাম।

এমপি তাজুল ইসলাম জানান, এ আসন আ’লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি। এখানে আ’লীগের উন্নয়ন কাজ অনেক হয়েছে। জয় আ’লীগেরই হবে।

তবে ভোটাররা বলছেন, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুয়েকটি আসন ছাড়া প্রায় আসনেই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে আ’লীগ দলীয় প্রার্থীদের। বেশ কয়েজন প্রভাবশালী সাংসদ জনগণের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন।

তবে সম্প্রতি তারা এলাকামুখী হয়েছে। ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন। সময়ই বলে দিবে ভোট কোথায় যায়।